শেখ হাসিনার বক্তব্য এখন ‘অপ্রাসঙ্গিক’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

 সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন মন্তব্যকে সম্পূর্ণ 'অপ্রাসঙ্গিক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামির বক্তব্য নিয়ে সরকার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।


গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশত্যাগ করা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। তাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কতদূর-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের আদালত তাকে সাজা দিয়েছে। যিনি বহু অন্যায়, অত্যাচার ও কুকর্ম করে বিদেশে পালিয়ে আছেন, তার বক্তব্য এখানে একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক।”


সরকার গঠনের প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই-এমন সমালোচনার জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, “এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, নতুন সরকার গঠনের পর তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কূটনীতির কোনো ঘাটতি নেই, আমরা যথাযথ প্রটোকল মেনেই কাজ করছি।”


প্রতিমন্ত্রী জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় প্রথাগত কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে ফেরত আনার সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। সরকার পরিবর্তন বা প্রশাসনিক রদবদল প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, এটি সরকারের একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। দেশের স্বার্থে এবং কাজের গতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারে।


শামা ওবায়েদ দৃঢ়তার সঙ্গে আরও যোগ করেন, “জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যে ব্যাপক দুর্নীতি, খুন ও গুমের অভিযোগ রয়েছে, জনগণ তার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বিচার চায়। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতেই বিচার সম্পন্ন করা হবে।” বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো শৈথিল্য নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ সময় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে, যেখানে রদবদল বা কূটনৈতিক কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।