বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান: ডব্লিউটিওর তথ্যে বড় উদ্বেগের বার্তা

ডেস্ক রিপোর্ট: বৈশ্বিক তৈরি পোশাক রপ্তানির বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখলেও, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির সূচকে আশঙ্কাজনকভাবে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিসটিকস: কি ইনসাইটস অ্যান্ড ট্রেন্ডস ইন ২০২৫’-এ এই উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলো নিজেদের বাজার হিস্যা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ মাত্র দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে একরকম স্থবিরতায় রয়েছে।


ডব্লিউটিওর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছর বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশ সেই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। গত বছর বাংলাদেশ ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। অথচ একই সময়ে ভিয়েতনামের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ, ভারতের ৫ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ১৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ৬ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ শতাংশ। রপ্তানিতে এমন শ্লথ গতির কারণে বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাজার হিস্যা ৭ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমে এসেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের বাজার হিস্যা কমলেও, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। ভিয়েতনাম ৩৭ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছে এবং তাদের বাজার হিস্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশে। চীনের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ কমলেও ১৫৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি নিয়ে তারা এখনো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।


এই পিছিয়ে পড়ার পেছনে বাংলাদেশের সক্ষমতার অভাব ও কাঠামোগত দুর্বলতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ-এর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ‘প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশেরও কম হওয়াটা গভীর উদ্বেগের বিষয়। ভারত ও কম্বোডিয়া সরকারি সহায়তায় আগ্রাসী বিপণন নীতি অনুসরণ করছে, আর ভিয়েতনাম দীর্ঘমেয়াদী পেশাদারিত্ব ও পণ্য বৈচিত্র্যের মাধ্যমে একটি টেকসই কাঠামো গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে পড়ছে, তা দ্রুত নিরূপণ করে জাতীয় পর্যায়ে কর্মকৌশল গ্রহণ করা জরুরি।’


উল্লেখ্য, গত বছর বৈশ্বিক পণ্য ও সেবা বাণিজ্য ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪ দশমিক ৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এমন বর্ধিত বাজারে বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স দেশের প্রধান এই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং ভিয়েতনামের মতো মডেল অনুসরণের মাধ্যমেই কেবল বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের হারানো আধিপত্য পুনরায় ফিরে পাওয়া সম্ভব।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।