ঈদে চাল নিয়ে ছিনিমিনি: রাজবাড়ীর দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করল মন্ত্রণালয়

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার প্রভাবশালী দুই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক কঠোর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই দুই জনপ্রতিনিধি হলেন—উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন এবং মদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিক। মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত সরকারি চাল বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হওয়ায় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই অপসারণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আবদুর রহমানের স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি জনস্বার্থ এবং ইউনিয়ন পরিষদের নীতি ও আদর্শের চরম পরিপন্থী। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(খ) ও ৩৪ (ঘ) ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ফলে একই আইনের ৩৪(১) ধারার ক্ষমতাবলে তাঁদের ওপর অর্পিত পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেজবাহ উদ্দীন দেশ মিডিয়াকে জানান, বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনটি গত রোববার বিকেলেই উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরে এসে পৌঁছায়। প্রজ্ঞাপন পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত দুই চেয়ারম্যানকে বিষয়টি সরাসরি অবহিত করা হয়েছে। এর ফলে গতকাল সোমবার থেকেই তাঁরা আর কোনো দাপ্তরিক বা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। ইউএনও আরও যোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম যাতে থমকে না যায়, সে লক্ষ্যে দ্রুতই বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য যে, ঈদুল ফিতরের মতো পবিত্র উৎসবে অসহায় ও দুস্থ মানুষের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই মানবিক কর্মসূচি পরিচালিত হয়। কিন্তু সেই সরকারি চাল বিতরণে অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম ধরা পড়ায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি তছরুপের ক্ষেত্রে প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেবে এবং আগামীর ত্রাণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।