উগ্রবাদ ও ফ্যাসিবাদের ঠাঁই নেই বাংলাদেশে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট: জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই উগ্রবাদ, চরমপন্থা কিংবা ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানকে প্রশ্রয় দেবে না। বুধবার বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবেই তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে অটুট ঐক্য বজায় থাকবে।


গত ৭ জুন শুরু হওয়া এই বাজেট অধিবেশনটি ২৬ কার্যদিবস চলার পর আজ সমাপ্ত হলো। অধিবেশনে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে এবং সংসদ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও প্রাণবন্ত আলোচনার নজির স্থাপিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের সুপরিকল্পিত পদক্ষেপে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছাবে।


ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনামলের ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে উন্নয়নের নামে কেবল পকেট ভারী করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লুটপাটের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তখন প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছিল। এই দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরে দেশ থেকে পাচার রোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি পেশাদার ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান।


জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বর্তমান সুবিধাগুলোকে পর্যায়ক্রমে একটি ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর আওতায় নিয়ে আসা হবে। এটি রাষ্ট্রের কোনো করুণা নয়, বরং জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অতীতে একটি বিশেষ গোষ্ঠী বা দেশকে সুবিধা দিতেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর পরিকল্পিতভাবে আঘাত করা হয়েছিল।


সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ‘জুলাই সনদ’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে রাষ্ট্র হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক এবং নাগরিক জীবন হবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ।’ পরিশেষে, সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বজায় রেখে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক মতামতের ভিত্তিতে জনগণের কাঙ্ক্ষিত ‘জনগণের সংসদ’ হিসেবে এই জাতীয় সংসদকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।