মেটাডোর কোম্পানির হোস্টেলে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড, মধ্যরাতে যেভাবে মিলল নিথর দেহ

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় একটি শ্রমিক হোস্টেলের ভেতর থেকে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৪ এপ্রিল) দিনগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের লেকপাড় এলাকায় অবস্থিত ‘মেটাডোর’ কোম্পানির শ্রমিক হোস্টেলের টয়লেট থেকে মো. ইয়াকুব আলী (২৫) নামে ওই যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।

গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইয়াকুব। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

নিহত ইয়াকুব আলী মেটাডোর কোম্পানিতে সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম আব্দুল মালেক। জীবিকার তাগিদে তিনি রাজধানীর এই শ্রমিক হোস্টেলে থাকতেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মেটাডোর কোম্পানির অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বজলুর রহমান জানান, “রাতে হঠাৎ খবর পাই যে হোস্টেলের টয়লেটে ইয়াকুব রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা দ্রুত সেখানে ছুটে গিয়ে তাকে গলাকাটা ও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখতে পাই। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।” এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত বা কী কারণে এই নির্মম ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, চিকিৎসকরা রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

শ্রমিক হোস্টেলের মতো সুরক্ষিত স্থানে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া