সীমান্তে ৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস আতঙ্ক: শেষ পর্যন্ত কী ঘটল দুই কিশোরের ভাগ্যে?

পঞ্চগড়ের মিস্ত্রিপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হওয়া দুই বাংলাদেশি কিশোরকে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উৎকণ্ঠা শেষে ফেরত আনা হয়েছে। বুধবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার মীরগড় সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে এক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ওই দুই কিশোর বিজিবির মীরগড় বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) হেফাজতে রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে। স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া সীমান্তের মেইন পিলার ৪১৭-এর ৯ নম্বর সাব-পিলার এলাকা থেকে বিএসএফের ১৩২ ব্যাটালিয়নের মরিচা ক্যাম্পের সদস্যরা দুই কিশোরকে ধরে নিয়ে যায়। আটককৃতরা হলো— আটোয়ারী এলাকার শিবু চন্দ্র রায়ের ছেলে ইন্দ্র (১৪) এবং সমারু চন্দ্র রায়ের ছেলে উদয় (১৪)।

জানা গেছে, ওই দুই কিশোর গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। বুধবার বেলা ১১টার দিকে তারা কৌতুহলবশত সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকায় চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা সেখানে ঘোরাঘুরি করছিল এবং স্মার্টফোনে ছবি তুলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিএসএফের টহল দল তাদের গতিরোধ করে এবং জোরপূর্বক ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।

বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিস্ত্রিপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা। বিজিবির পক্ষ থেকে দ্রুত বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়। দিনভর দফায় দফায় আলোচনার পর বিকেলে মীরগড় সীমান্তে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে বিএসএফ তাদের হস্তান্তরের বিষয়ে একমত পোষণ করে।

গরিনাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দীপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "কিশোর দুজনেই সীমান্তের কালুপাঠা গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসেছিল। তারা অবুঝের মতো সীমান্তের কাছে গিয়ে ছবি তুলছিল, তখনই বিএসএফ তাদের ধরে নিয়ে যায়। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা বিজিবিকে বিষয়টি অবহিত করি।"

পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বলেন, "স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাওয়ামাত্রই আমরা বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ শুরু করি। আমাদের কূটনৈতিক ও পেশাদার তৎপরতায় মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের অক্ষত অবস্থায় ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছি। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।"

সীমান্তে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের এবং বিশেষ করে পর্যটকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া