বাংলাদেশের নতুন আমদানি নীতিতে ওয়াশিংটনের বিশেষ নজর; শীঘ্রই সফরে আসছেন ব্রেন্ডান লিঞ্চ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সংলাপ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে ‘অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ’ (ইউএসটিআর)-এর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী ব্রেন্ডান লিঞ্চ খুব শীঘ্রই ঢাকা সফরে আসছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের আগামী দিনের নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ’ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং এ বিষয়ে নীতিগত আলোচনার লক্ষ্যেই তাঁর এই সফর নির্ধারিত হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্রেন্ডান লিঞ্চের আসন্ন সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য বিনিয়োগ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।


বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বৈঠকে জানান, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী ‘আমদানি নীতি আদেশ’ প্রণয়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬’-এর একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা ব্যবসায়ী মহলের গঠনমূলক মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সরকারের এই উদ্যোগটি দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে এক নতুন গতিশীলতা আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বৈঠক চলাকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বর্তমান স্থিতিশীলতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বর্তমানে বাংলাদেশের সংসদীয় কার্যক্রম অত্যন্ত সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। একে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক বা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি আরও বড় করা উভয় রাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্যই কল্যাণকর হবে।


এ সময় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং নীতিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে দুই পক্ষই একমত পোষণ করেন। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল ইকোনমিক কাউন্সিলর মি. এরিক গিলান উপস্থিত ছিলেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, ব্রেন্ডান লিঞ্চের আসন্ন সফরটি ওয়াশিংটন ও ঢাকার মধ্যকার বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমিয়ে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।