ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ কি তবে অলরেডদের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন? গতকাল রাতে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে লিভারপুলের ম্যাচ চলাকালীন এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা ক্লাব সমর্থক এবং সালাহ ভক্তদের মনে গভীর শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে হ্যামস্ট্রিংয়ের গুরুতর চোট নিয়ে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন সালাহ, তখন দর্শকদের অভিবাদনের জবাবে তাঁর চোখেমুখে ফুটে ওঠা বিষণ্নতা এক দীর্ঘস্থায়ী বিচ্ছেদের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
ম্যাচ শেষে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সালাহর এই চোট বেশ গুরুতর। লিভারপুল ক্লাব কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও মিশর জাতীয় দলের ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসান এক বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’কে তিনি জানিয়েছেন, সালাহর হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে উঠতে অন্তত চার সপ্তাহ সময় লাগবে। এর অর্থ হলো, লিভারপুলের হয়ে চলতি মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে তাঁর মাঠে নামার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। তবে একটি আশার কথা শুনিয়েছেন ইব্রাহিম হাসান—মৌসুম শেষে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপে মিশরের হয়ে সালাহকে দেখা যাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট অবশ্য এখনই হাল ছাড়তে নারাজ। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা সবাই জানি মো (সালাহ) কতটা লড়াকু, তাঁর জন্য মাঠ ছেড়ে যাওয়াটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। চোট কতটা গভীর, তা নিশ্চিত হতে আমাদের আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।” তবে স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া অপর এক সাক্ষাৎকারে স্লট স্বীকার করেছেন যে, সালাহ নিজেও হয়তো মাঠ ছাড়ার সময় আবেগী হয়ে পড়েছিলেন এই ভেবে যে, এটিই হয়তো লিভারপুলের হয়ে তাঁর শেষ পদচিহ্ন।
২০১৭ সালে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর থেকে মোহাম্মদ সালাহ কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং ক্লাবটির কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। দীর্ঘ সাত বছরের আইকনিক ক্যারিয়ারে তিনি ক্লাবকে এনে দিয়েছেন দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, উয়েফা সুপার কাপ, এফএ কাপ, দুটি লিগ কাপ এবং একটি কমিউনিটি শিল্ড। যদিও নিজের বিদায়ী মৌসুমে ট্রফিশূন্য থাকতে হচ্ছে এই মহাতারকাকে।
পরিসংখ্যানের পাতায় সালাহ এখন লিভারপুলের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। ক্লাবটির হয়ে ৪৩৫ ম্যাচে ২৫৭টি গোল করেছেন তিনি, চলতি মৌসুমেও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১২ গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট। তাঁর ওপরে কেবল রয়েছেন রজার হান্ট (২৮৫ গোল) এবং ইয়ান রাশ (৩৪৬ গোল)। লিভারপুলের হয়ে আগামী ৯ মে চেলসি এবং ২৪ মে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুটি ম্যাচসহ মোট চারটি খেলা বাকি আছে। সালাহর এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায় আনফিল্ডের দর্শকদের জন্য এক অপূরণীয় মানসিক শূন্যতা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ফুটবল বিশ্বের এই ‘কিং’ কত দ্রুত সুস্থ হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসতে পারেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।