আইসিসি-এসিসিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি আসলে কে? তামিম না আমিনুল—ফাঁস হলো আসল জট

দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ঘটলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর স্বীকৃতি পাওয়া নিয়ে এক জটিল ও সময়সাপেক্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিসিবির নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভাতেই সর্বসম্মতিক্রমে তামিম ইকবালকে আইসিসি ও এসিসিতে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। ক্রিকেটের চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী, দেশের বোর্ড প্রধানই আন্তর্জাতিক ফোরামে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে তিন সপ্তাহ অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আইসিসির ‘বোর্ড অব ডিরেক্টরস’ এবং মহসিন নাকভির নেতৃত্বাধীন এসিসি-র ‘এক্সিকিউটিভ বোর্ড মেম্বার’ তালিকায় আমিনুল ইসলামের নাম অপরিবর্তিত থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের বোর্ড প্রধানের পরিবর্তন কেবল ঘরোয়া সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য একটি বিশেষ দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, যাকে বলা হয় ‘ইনডাকশন প্রসেস’ (Induction Process)। এটি অনেকটা নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিক বরণ করে নেওয়ার মতো বিষয়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তামিম ইকবালকে আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভার আগেই দুবাইয়ে সংস্থাটির সদর দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে আইসিসির হেড অব লিগ্যালের তত্ত্বাবধানে তিনি আচরণবিধিতে সই করবেন এবং বিসিবির বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত হবেন। এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইসিসির নথিতে পুরোনো সভাপতির নামই থেকে যায়।

তবে এই ‘ইনডাকশন’ প্রক্রিয়ায় একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আইনি জটিলতা রয়েছে। আইসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ‘অনির্বাচিত’ নেতৃত্বের বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। তামিম ইকবাল যেহেতু সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, বরং সরকারের মনোনীত একটি অ্যাডহক বা আহ্বায়ক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন, তাই আইসিসি তাঁর সদস্যপদ গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আইসিসি সাধারণত কেবল স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আসা প্রতিনিধিদেরই স্বীকৃতি দেয়। অতীতেও নাজমুল হাসান দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কিছুদিন আ হ ম মুস্তফা কামালই নামমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আইসিসিতে থেকে গিয়েছিলেন।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে এক টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিষয়টি একই সাথে প্রক্রিয়াগত এবং আইনগত। তিনি বলেন, “হয়তো ইনডাকশন প্রসেস শেষ হয়নি, অথবা আইনি কোনো বাধার কারণে আইসিসি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিষয়টি আইসিসিই ভালো বলতে পারবে।” অন্যদিকে, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দীন চৌধুরী বিষয়টিকে খুব বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভার আগেই এই প্রক্রিয়াটি শেষ হবে এবং অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নাম আপডেট করা হবে।

আইসিসি অবশ্য এই মুহূর্তে একটি রহস্যময় নীরবতা বজায় রাখছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান অ্যাডহক কমিটিকে ‘অবৈধ’ দাবি করে আমিনুলের পক্ষ আইসিসির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি ভার্চ্যুয়াল ‘জুম মিটিং’-এ বসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও আইসিসি বারবার সেই বৈঠক পিছিয়ে দিচ্ছে, তবে বিসিবির ব্যাপারে তারা কঠোর অবস্থান নেবে না কি ‘বিশেষ বিবেচনায়’ তামিমকে গ্রহণ করবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আসন্ন ৩১ মে ভারতের আহমেদাবাদে আইপিএল ফাইনালকে কেন্দ্র করে আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সভাতেই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় রাজনীতির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ। ওই সভায় বাংলাদেশের ডিরেক্টর হিসেবে কে উপস্থিত থাকেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আইসিসি ও এসিসিতে টাইগারদের আগামী দিনের প্রতিনিধিত্ব।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।