দেয়াল হয়েও কেন বিদীর্ণ হলেন নয়্যার? চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম লজ্জার রেকর্ড

ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে গোলরক্ষকদের জন্য অন্যতম আদর্শ ও ‘শেষ দেয়াল’ হিসেবে যাঁর পরিচিতি, সেই ম্যানুয়েল নয়্যারের ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর অধ্যায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের মহারণে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) বিপক্ষে ৫-৪ গোলের নাটকীয় হারের রাতে এক লজ্জাজনক পরিসংখ্যানের অংশ হয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই অভিজ্ঞ অধিনায়ক। ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখী শটগুলোর একটিও প্রতিহত করতে না পারার এক অদ্ভুত ব্যর্থতার সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব।

কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের মতো পরাশক্তিকে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখা বায়ার্ন মিউনিখ এবার ছিল আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। সেই লড়াইয়ে নয়্যারের বিশ্বস্ত গ্লাভস জোড়া ছিল বায়ার্নের জয়ের অন্যতম কারিগর। তবে প্যারিসের মাঠে বুধবারের রাতটি ছিল তাঁর জন্য একেবারেই উল্টো। পিএসজির আক্রমণভাগ বায়ার্ন রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একের পর এক আঘাত হানে। পুরো ম্যাচে নয়্যার মোট ৫টি গোল হজম করেন, কিন্তু আশ্চর্যজনক তথ্য হলো, তাঁর গোলপোস্টে আসা প্রতিপক্ষের অন-টার্গেট শটগুলোর একটিও তিনি ‘সেভ’ করতে পারেননি। অর্থাৎ, পিএসজির প্রতিটি নির্ভুল শটই জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়েছে।

ফুটবল পরিসংখ্যান বিষয়ক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এমন ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। দীর্ঘ ১৬ বছরের ইতিহাসে নয়্যারই প্রথম গোলরক্ষক যিনি অন্তত পাঁচ গোল হজম করার ম্যাচে একটি শটও আটকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ‘সুইপার-কিপার’ হিসেবে পরিচিত নয়্যারের জন্য এটি ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় এক মানসিক ধাক্কা।

ম্যাচ শেষে নিজের এই শোচনীয় পারফরম্যান্স নিয়ে মুখ খুলেছেন নয়্যার। তিনি স্বীকার করেন যে, পিএসজির আক্রমণভাগের প্রতিটি শটই ছিল অত্যন্ত নিঁখুত এবং পরিকল্পিত, যা রুখে দেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। নয়্যার বলেন, “পিএসজির ফরোয়ার্ডরা অবিশ্বাস্য গতিতে এবং খুব কাছ থেকে আক্রমণ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে আমি বলের খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত তা লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে পারিনি। কখনও ভাগ্য সহায় হয়নি, আবার কখনও রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতা আমাদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, গোলরক্ষক হিসেবে যখন কেউ পাঁচবার বল জালে জড়াতে দেখেন, তখন পুরো দলের মনোবলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে এই বিশাল বিপর্যয় সত্ত্বেও হাল ছাড়তে রাজি নন ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। আগামী ৬ মে বায়ার্নের ঘরের মাঠ ‘অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায়’ ফিরতি লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। নয়্যার আশাবাদী যে, ঘরের মাঠে নিজেদের দর্শকদের সামনে রক্ষণভাগের ত্রুটি সংশোধন করে বায়ার্ন আবারও দাপুটে প্রত্যাবর্তন করবে এবং ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।