আইপিএলে এ কী দেখল বিশ্ব? এক দিনে ৯৮৬ রান আর ৫৯ ছক্কার অতিমানবীয় রেকর্ড!

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) বাইশ গজে গত শনিবার যা ঘটে গেল, তাকে ক্রিকেটীয় পরিভাষায় ‘তাণ্ডব’ বললেও যেন কম বলা হয়। বোলারদের জন্য এক বিভীষিকাময় দিনে আইপিএলের রেকর্ড বইয়ের প্রায় প্রতিটি পাতা নতুন করে লিখতে বাধ্য করেছেন ব্যাটাররা। শনিবারের ডাবল হেডারের দুটি ম্যাচে মাত্র ৭৭ ওভার ২ বলের লড়াইয়ে স্কোরবোর্ডে উঠেছে অবিশ্বাস্য ৯৮৬ রান। আইপিএলের দীর্ঘ ইতিহাসে এক দিনে এত রান আগে কখনো দেখেনি ক্রিকেট বিশ্ব। এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল এক দিনে সর্বোচ্চ ৮৯৯ রানের রেকর্ড হয়েছিল, যা এবার তুড়িতে উড়িয়ে দিলেন লোকেশ রাহুল ও বৈভব সূর্যবংশীরা।

দিনের প্রথম ম্যাচে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস ও পাঞ্জাব কিংস। সেই ম্যাচে রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে বোলারদের আর্তনাদ স্পষ্ট ছিল। দুই দল মিলিয়ে তোলে ৫২৯ রান। অন্যদিকে, জয়পুরের সওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের লড়াইয়ে আসে ৪৫৭ রান। কেবল রানের রেকর্ডই নয়, ছক্কার নিরিখেও দিনটি ছিল অনন্য। দুই ম্যাচে গ্যালারিতে বল আছড়ে পড়েছে মোট ৫৯ বার। এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ ৫৩টি ছক্কার রেকর্ড ছিল গত বছরের।

এদিন ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায় সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী। হায়দরাবাদ পেসার প্রফুল হিঞ্জের করা ইনিংসের প্রথম ওভারেই ৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে আইপিএল ইতিহাসের এক অনন্য নজির গড়েন এই কিশোর। ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়ে প্রথম ওভারেই হয়েছে ৬টি ছক্কা, যা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই প্রথম। সূর্যবংশী মাত্র ১৫ বলে ফিফটি এবং ৩৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে আরও একটি ইতিহাস গড়েন। মাত্র ৪৭৩ বল খেলে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্রুততম এবং সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। আইপিএলে মাত্র ১৫টি ইনিংসে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

অন্য দিকে, দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক লোকেশ রাহুল খেলেন দানবীয় এক ইনিংস। ৬৭ বলে ১৫২ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনি ৪৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এটি আইপিএলের ইতিহাসে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এবং সব মিলিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এত বড় ইনিংসের পরও পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়েছে রাহুলকে। পাঞ্জাব কিংস ২৬৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয়। প্রভসিমরান সিংয়ের ৭৬ এবং শ্রেয়াস আইয়ারের অপরাজিত ৭১ রানের ওপর ভর করে পাঞ্জাব যে জয়টি পেয়েছে, তা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ড।

শনিবারের এই মহাকাব্যিক দিনটি প্রমাণ করেছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এখন পুরোপুরি ব্যাটারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। রেকর্ড ভাঙাগড়ার এই খেলায় বোলারদের জন্য কোনো সহানুভূতি ছিল না। সূর্যবংশীর বিধ্বংসী ব্যাটিং আর রাহুলের অনবদ্য ১৫০ রানের পরও তাদের দল হেরে যাওয়ায় ক্রিকেট মহলে একটি প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে—টি-টোয়েন্টিতে কি এখন কোনো সংগ্রহই নিরাপদ নয়?

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।