মাঠের লড়াই যেখানে ফুটবলীয় জাদুতে মুগ্ধ করার কথা, সেখানে স্প্যানিশ ফুটবলের দ্বিতীয় বিভাগ বা ‘সেগুন্দা ডিভিশন’-এ ঘটে গেল এক জঘন্য ও অপেশাদার ঘটনা। রিয়েল সারাগোসার আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদা প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ের ওপর চড়াও হয়ে ফুটবল বিশ্বের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এসডি হুয়েস্কার বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হুয়েস্কার অধিনায়ক জর্জে পুলিদোকে লক্ষ্য করে এক শক্তিশালী ও নির্মম ঘুষি মারেন আন্দ্রাদা। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ফুটবল প্রেমীদের মাঝে নিন্দার ঝড় ওঠে।
বর্বরোচিত এই আচরণের দায়ে গত বুধবার দুপুরে এক জরুরি সভার পর স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন আন্দ্রাদাকে ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। সেগুন্দা ডিভিশনের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড়ের ওপর আরোপিত দীর্ঘতম নিষেধাজ্ঞা। যদিও ঘটনার পরপরই নিজের ভুল বুঝতে পেরে আন্দ্রাদা পুলিদোর কাছে সশরীরে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন এবং জনসমক্ষে অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু ফেডারেশন কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে শাস্তির বিষয়ে কোনো আপস করেনি।
এই কঠোর সিদ্ধান্ত ফুটবলীয় ইতিহাসে কয়েক দশক আগের কিছু বিধ্বংসী স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্প্যানিশ ফুটবলের শীর্ষ স্তর তথা লা লিগার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞার রেকর্ডটি হয়েছিল প্রায় ৬২ বছর আগে। ১৯৬৪ সালে জোয়াকিন কর্তিজো এক প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পা ভেঙে দিয়েছিলেন এক নৃশংস ট্যাকলে। সেই ভয়াবহ অপরাধের জন্য কর্তিজোকে ২৪ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যা আজও লা লিগার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
এস্তেবান আন্দ্রাদার এই ১৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা সেগুন্দা ডিভিশনে নতুন এক ‘নেগেটিভ রেকর্ড’ গড়লেও, এটি লা লিগার সেই প্রাচীন রেকর্ডের চেয়ে অনেক কম। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক ফুটবলে পেশাদারিত্ব এবং মাঠের আচরণ সম্পর্কে খেলোয়াড়দের সতর্কবার্তা দিতেই এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রিয়েল সারাগোসা তাঁদের মূল গোলরক্ষককে ছাড়া আসন্ন ম্যাচগুলোতে বড় ধরনের কৌশলগত সংকটে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।