‘রক্তের ঋণ শোধ হয়নি’: নতুন বছরে সরকারকে কোন বকেয়ার কথা মনে করিয়ে দিলেন নাহিদ ইসলাম?

বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে যখন দেশজুড়ে উদযাপনের আমেজ, ঠিক তখনই সরকারের প্রতি তীক্ষ্ণ সমালোচনার তির ছুড়লেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ঐতিহ্যবাহী ‘হালখাতা’র উদাহরণ টেনে তিনি অভিযোগ করেছেন, গত বছরের অসমাপ্ত সংস্কার এবং জনগণের দাবির বিশাল বকেয়া রেখেই বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার নতুন বছরের কার্যক্রম শুরু করেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের নেভি গলিতে এনসিপি আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, "ব্যবসায়ীরা যেমন বছরের শুরুতে সব বকেয়া পরিশোধ করে নতুন হালখাতা খোলেন, রাষ্ট্রকেও ঠিক একইভাবে জাতীয় জীবনের সব অমীমাংসিত দাবি তথা ‘জুলাই সনদ’ এর বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু সরকার সেই পথে না হেঁটে সংস্কারগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।"

দেশের সাম্প্রতিক উত্তাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, "আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। এই দেশের জন্য আমাদের তরুণ প্রজন্ম রাজপথে বুক পেতে দিয়েছে, রক্ত ঝরিয়েছে। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির মতো অগণিত প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে বিফলে যেতে দেওয়া হবে না।"

নাহিদ ইসলাম সরকারের সমালোচনা করে আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে নির্বাচন হয়েছে এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এমনকি সংসদে বিরোধী দলও গঠিত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে যে ‘সংস্কার’ এর জন্য সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমেছিল, তা এখনো দৃশ্যমান নয়। তার মতে, জনগণের রক্তের ঋণ পরিশোধ না করেই সরকার কেবল আনুষ্ঠানিকতায় মগ্ন। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দেন যে, যারা গণভোটের রায়কে অশ্রদ্ধা করছে কিংবা জুলাই সনদকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের অচিরেই জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণরায়ের ভিত্তিতে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নই এখন সময়ের একমাত্র দাবি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে সাধারণ মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমরা দাবি করছি, অনতিবিলম্বে সেগুলোকে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করা হোক।"

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদের প্রভাব উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে পয়লা বৈশাখসহ সব বড় উৎসবকে দলীয়করণের মাধ্যমে সংকীর্ণ করা হয়েছিল। এনসিপি সেই প্রথা ভেঙে উৎসবগুলোকে সাধারণ নাগরিক উৎসবে রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছে। নাহিদ ইসলামের ভাষায়, "সাংস্কৃতিক মুক্তি ছাড়া রাজনৈতিক সংস্কার কখনোই টেকসই হবে না।"

উক্ত অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সংগঠনের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বৈশাখী এই মিলনমেলা থেকে নেতৃবৃন্দ অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন নতুন এক রাজনৈতিক বন্দোবস্তের শপথ গ্রহণ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া