তারেক রহমান সরকারের প্রথম মন্ত্রী হিসেবে ভারত সফরে খলিলুর রহমান

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন খলিলুর রহমান। আজ বুধবার দিল্লির ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্ববহ এক বৈঠকে মিলিত হন তিনি। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ কিছুক্ষণ একান্ত আলাপেও অংশ নেন, যা কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।


কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের এই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে কেবল দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত ইস্যুগুলোই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা বিষয়ক ‘মেসেজ’ বা বার্তাও গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।


২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার প্রথাগত কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের শীতলতা বা ‘ডিপ্লোম্যাটিক স্ট্যাটিক’ তৈরি হয়েছিল। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সেই সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এই নতুন সরকারের প্রথম ‘ক্যাবিনেট’ সদস্য হিসেবে খলিলুর রহমানের ভারত সফরটি মূলত একটি ‘শুভেচ্ছা সফর’ হলেও এর মধ্য দিয়ে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নতুন পথ তৈরি হচ্ছে।


আজকের ব্যস্ত সূচির শুরুতেই ভারতের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সেখানে তিনি বাংলাদেশের নতুন সরকারের লক্ষ্য ও পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিকেলের দিকে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তাঁর একটি নির্ধারিত বৈঠক রয়েছে, যেখানে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।


এর আগে সফরের প্রথম দিনেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন খলিলুর রহমান। উল্লেখযোগ্য যে, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যার ফলে দোভালের সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচয় আলোচনায় বিশেষ সহায়ক হয়েছে।


দিল্লি সফর শেষ করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মরিশাসের উদ্দেশে রওনা হবেন। আগামী ১১ ও ১২ এপ্রিল মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে তাঁরা অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ববাসীর কাছে বন্ধুত্বের বার্তা পৌঁছানোই এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।