রক্তচাপ থেকে কোলেস্টেরল, গাজরের জুস কতটা উপকারী

গাজর শুধু সবজি হিসেবে নয়, জুস হিসেবেও শরীরের জন্য বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের উৎস। এতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান হৃদস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে উপকার পাওয়ার আশায় অতিরিক্ত গাজরের জুস পান না করে পরিমাণের দিকে নজর দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

হেলথলাইনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। গাজরের জুসে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং রক্তনালির দেয়াল শিথিল করতে ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমতে পারে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হতে পারে।

গাজরের জুসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও হৃদস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য উপকারী। উচ্চ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা থাকা ১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে তিন মাসের একটি গবেষণায় প্রতিদিন দুই কাপ বা ৪৮০ মিলিলিটার গাজরের জুস পান করানো হয়। গবেষণায় দেখা যায়, এতে অংশগ্রহণকারীদের রক্তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং রক্তের চর্বির অক্সিডেশন কমেছে। এই প্রক্রিয়াটি হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

২০২৪ সালের একটি গবেষণাতেও ভিটামিন এ ও ই সমৃদ্ধ জুসের সম্ভাব্য উপকারের কথা উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, এ ধরনের জুস রক্তের চর্বি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা উন্নত করতে এবং রক্তনালির মধ্য দিয়ে রক্তপ্রবাহে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে রক্তে ভিটামিন এ, ই ও সি-এর উচ্চ মাত্রার সঙ্গে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

গাজরের জুসে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড ও ভিটামিন সি রয়েছে। এসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। ফ্রি র‍্যাডিক্যাল রক্তনালির অক্সিডেটিভ ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত, যা হৃদরোগ এবং ধমনিতে প্লাক জমার ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, রক্তে আলফা-ক্যারোটিন ও বিটা-ক্যারোটিনের উচ্চ মাত্রার সঙ্গে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বা ধমনিতে চর্বি জমে শক্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক রয়েছে। গাজরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও দ্রবণীয় ফাইবার এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়তা করতে পারে বলেও কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন।

দিনে কতটুকু গাজরের জুস?

গাজরের জুসের সম্ভাব্য উপকার থাকলেও পরিমিত পরিমাণে পান করা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত প্রতিদিন প্রায় এক কাপ বা ২৪০ মিলিলিটার গাজরের জুস পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।

অতিরিক্ত পরিমাণে গাজরের জুস পান করলে ত্বক হলুদ বা কমলা রঙের হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থাকে ক্যারোটিনেমিয়া বলা হয়। সাধারণত এটি অতিরিক্ত বিটা-ক্যারোটিন গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

আরেকটি বিষয় হলো, গোটা গাজরের তুলনায় জুসে ফাইবারের পরিমাণ কম থাকে। একই সঙ্গে এতে প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে। ফলে গোটা গাজর খাওয়ার তুলনায় জুস রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক দ্রুত বাড়াতে পারে।

এ কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের গাজরের জুসের পরিমাণের দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া উচিত। নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে পান করার আগে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, গাজরের জুসে থাকা পটাশিয়াম, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য উপকার বয়ে আনতে পারে। তবে এটিকে হৃদরোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে গাজরের জুস গ্রহণই হতে পারে তুলনামূলক ভালো পন্থা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।