মধু যতটা উপকারী ভাবছেন, অতিরিক্ত খেলে হতে পারে বিপদ

হাজার হাজার বছর ধরে খাবার ও বিভিন্ন প্রচলিত ব্যবহারে মধুর কদর রয়েছে। প্রাচীন মিশরীয়রা মাটির পাত্রে মৌমাছি পালন করত। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলেই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে মৌচাক তৈরি ও মৌমাছি পালনের চর্চা গড়ে উঠেছে।

মধুকে অনেকেই প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে উপকারী মনে করে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মধু খাওয়াও সবসময় ভালো নাও হতে পারে। মধুর সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে যেমন গবেষণা রয়েছে, তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিমাণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য প্রভাব

মধু পরিপাকতন্ত্রের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। এতে রয়েছে অলিগোস্যাকারাইড এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা মানুষের পরিপাকতন্ত্রের এনজাইম দিয়ে পুরোপুরি ভাঙে না।

এ কারণে মধু অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবায়োমের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে গবেষকদের আগ্রহ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মধুর কার্যকারিতা নিশ্চিতভাবে বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ভুল ধারণা নয়

পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করলে ক্ষুধা বা পেট ভরা অনুভূতিতে কিছুটা ভিন্ন প্রভাব পড়তে পারে এমন ইঙ্গিত কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে চিনি বাদ দিয়ে মধু খেলেই ওজন কমবে।

কারণ মধুতেও চিনি ও ক্যালরি রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করলেও অতিরিক্ত মধু খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২ হাজার ক্যালরির খাদ্যতালিকা অনুসরণকারী একজন ব্যক্তির দৈনিক অতিরিক্ত চিনি ৫০ গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ সীমা আরও কম।

ক্যানসার প্রতিরোধে মধু প্রমাণ এখনো সীমিত

মধুতে থাকা বিভিন্ন যৌগের সম্ভাব্য ক্যানসারবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়েও বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন। মধুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী কার্যক্রমের কারণে এ বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তবে পরীক্ষাগার বা প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণায় পাওয়া ফলকে এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না যে মধু খেলে ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায় বা ক্যানসারের চিকিৎসা সম্ভব।

মধুর কোনো নির্দিষ্ট যৌগ মানুষের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে বা চিকিৎসায় বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও ক্লিনিক্যাল গবেষণা প্রয়োজন।

অর্থাৎ, মধু খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে তবে ‘প্রাকৃতিক’ বলেই বেশি খাওয়া নিরাপদ, এমন ধারণা ঠিক নয়। উপকারের পাশাপাশি পরিমাণের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।