দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল: গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৮৪৬ শিশু

দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছে আরও ৩টি শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন ও হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৃতদের মধ্যে একজন সরাসরি হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি দুজন হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল।


অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট ৩৭টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৮৩টি শিশুর। অর্থাৎ, গত এক মাসের সামান্য বেশি সময়ে দেশে হাম ও সংশ্লিষ্ট উপসর্গে মোট ২২০টি শিশুর মৃত্যু হলো, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।


সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪ জনে। তবে সংক্রমণের তীব্রতা আরও স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৮৪৬টি শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ১৭০টি শিশুর মধ্যে হামের প্রাথমিক লক্ষণ বা উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই ৩মাসের সর্বোচ্চ সংক্রমণের চিত্র দেখা গেছে, যেখানে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৩৮২ জনই এই বিভাগের।


বিভাগীয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত শিশুটি ঢাকা বিভাগের এবং উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া বাকি দুজন ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৬২টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে, যার মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলো থেকে বাড়ি ফিরেছে ৩৭০টি শিশু।


দীর্ঘমেয়াদী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২৪ হাজার ৭৭৬টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই বিশাল সংখ্যার বিপরীতে এ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে ১৬ হাজার ১৭২টি শিশুকে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এর মধ্যে ৩ হাজার ৬১৭ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৩ হাজার ২৫৮ জন।


চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, শিশুদের মধ্যে প্রচণ্ড জ্বর, শরীরে লালচে র‍্যাশ এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করা জরুরি। বিশেষ করে টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিবিড় তদারকি বজায় রাখলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।