৮০তম জন্মদিনে ১৭ ফুটের দানবীয় কেক! বিশ্বরেকর্ড ভাঙার পথে কানাডার এই বৃদ্ধ

জন্মদিন মানুষের জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত, আর সেই মুহূর্তটি যদি হয় জীবনের আশি বছর পূর্ণ হওয়ার সন্ধিক্ষণ, তবে আয়োজনটি তো রাজকীয় হওয়া চাই। তবে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কুয়েসনেল শহরের বাসিন্দা টেড মার্টিনডেল যা করলেন, তা কেবল রাজকীয় নয়, বরং রীতিমতো বিশ্বরেকর্ডের দাবিদার। নিজের ৮০তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি তৈরি করেছেন ৬ হাজার ৪৪ পাউন্ড ওজনের এক দানবীয় ‘ক্যারট কেক’ (গাজর দিয়ে তৈরি কেক), যা দেখে বিস্মিত পুরো বিশ্ব।

টেড মার্টিনডেল পেশায় কুয়েসনেল শহরের জনপ্রিয় ‘গ্র্যানভিল’স ক্যাফে’-র মালিক। জীবনের বিশেষ এই মাইলফলকে ভিন্নধর্মী কিছু করার পরিকল্পনা থেকেই তিনি এই বিশালাকার কেক তৈরির উদ্যোগ নেন। ১৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৭ ফুট প্রস্থের এই বিশাল আকৃতির কেকটি সাধারণ কোনো রান্নাঘরে তৈরি করা সম্ভব ছিল না। ফলে মার্টিনডেল তাঁর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁর দোকানের আশপাশের স্থানীয় বেকারিগুলোর সহায়তা গ্রহণ করেন।

এই বিশালাকার ‘ক্যারট কেক’ তৈরির কর্মযজ্ঞ ছিল সত্যিই পাহাড়সম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেকটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১ হাজার ৭৬০ পাউন্ড টাটকা গাজর, ৭০০ পাউন্ড খাটি মাখন, কয়েক হাজার ডিম এবং প্রায় ২ হাজার পাউন্ড সুস্বাদু আইসিং। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অক্লান্ত পরিশ্রমের পর ৪৩০টি আলাদা আলাদা কেক প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীতে এই ছোট কেকগুলোকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয় মূল কাঠামোটি।

গত বুধবার মার্টিনডেলের জন্মদিনের মূল অনুষ্ঠানে যখন এই বিশাল কেকটি আনা হয়, তখন উপস্থিত অতিথিদের বিস্ময়ের সীমা ছিল না। বর্তমানে সবচেয়ে বড় গাজর কেকের রেকর্ডটি ২০১৬ সাল থেকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারিতে অবস্থিত একটি বেকারির দখলে রয়েছে, যার ওজন ছিল ৪ হাজার ৫৭৪ পাউন্ড। মার্টিনডেলের দাবি অনুযায়ী, তাঁর তৈরি কেকটি আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় ১,৪৭০ পাউন্ড বেশি ভারী।

যদিও অনানুষ্ঠানিকভাবে তিনি রেকর্ডটি ভেঙে ফেলেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দাপ্তরিক স্বীকৃতি পেতে এখনও কিছু আইনি ও দালিলিক প্রমাণপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। মার্টিনডেল আশাবাদী, তাঁর এই দীর্ঘ পরিশ্রম এবং জন্মদিনের এই অভিনব উপহার কেবল তাঁর ক্যাফেকেই নয়, বরং কুয়েসনেল শহরকেও বিশ্বের দরবারে এক অনন্য পরিচিতি এনে দেবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।