কর্মসংস্থানের বাজারে নিয়োগকর্তারা সাধারণত একজন প্রার্থীর কারিগরি দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির সঙ্গে তিনি কতটা মানানসই—তা বিচার করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। অনেক সময় আবেদন বাতিল হলে তার পেছনে সুনির্দিষ্ট বা যৌক্তিক কারণ থাকে। কিন্তু ভারতের এক চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা আধুনিক করপোরেট দুনিয়ার প্রতিটি যৌক্তিক নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে কেবল একটি কারণে—তাঁর বর্তমান বা পুরোনো কর্মস্থলটি নতুন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় থেকে মাত্র ৬০০ মিটার দূরে অবস্থিত।
সম্প্রতি এই বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘রেডিট’-এ (Reddit) শেয়ার করেছেন ওই ভুক্তভোগী যুবক। তিনি তাঁর পোস্টে জানান, নির্ধারিত পদের জন্য তাঁর যোগ্যতা বা মেধার কোনো ঘাটতি ছিল না। এমনকি নিয়োগকর্তারা তাঁকে পাঠানো ফিরতি বার্তায় তাঁর ‘প্রোফাইল’ (Profile) ও ‘এক্সপেরিয়েন্স’ (Experience) বা অভিজ্ঞতার ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁর আবেদনটি বাতিল করা হয় এক আজব ওজরে।
নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পাঠানো ই-মেইলের বরাত দিয়ে ওই চাকরিপ্রার্থী লিখেছেন, ‘আজ আমি আমার জীবনের সবচেয়ে মজার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ই-মেইলটি পেয়েছি। তাঁরা জানিয়েছেন যে, আমার অভিজ্ঞতা পছন্দ হলেও তাঁরা আমাকে নিয়োগ দিতে পারছেন না। কারণ, তাঁদের কোম্পানির গোপনীয়তা ও তথ্য নিরাপত্তা নীতি (Privacy and Data Security Policy) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর আগের কর্মস্থল যদি বর্তমান অফিসের খুব কাছাকাছি হয়, তবে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি থাকে। আর কাকতালীয়ভাবে আমার আগের অফিসের দূরত্ব ছিল তাঁদের অফিস থেকে মাত্র ৬০০ মিটার।’
যদিও ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ডিজিটাল দুনিয়ায় হাসির রোল পড়েছে। নেটিজেনরা এই অদ্ভুত নীতি নিয়ে নানা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করছেন। অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ‘অ্যালগরিদম’ (Algorithm) বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, কার্যালয়ের দূরত্ব কম হলেই কীভাবে তথ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, তা বোধগম্য নয়। বরং কাছাকাছি কর্মস্থল হওয়ার ফলে যাতায়াতের সময় বাঁচত এবং কর্মস্পৃহা বাড়ত বলেই অধিকাংশের মত।
আধুনিক করপোরেট সংস্থাগুলো যখন কর্মবান্ধব পরিবেশ ও নমনীয় নীতিমালা নিয়ে কাজ করছে, তখন এমন একটি ‘ব্যাকডেটেড’ বা সেকেলে অজুহাতে যোগ্য প্রার্থীকে ফিরিয়ে দেওয়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দূরদর্শিতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলেছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করল যে, দক্ষতা আর যোগ্যতা থাকলেও মাঝে মাঝে ভাগ্যের গোলকধাঁধায় পড়ে এমন অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষদের।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।