‘আপনি পাগল, সবাই আপনাকে ঘৃণা করে’: নেতানিয়াহুর ওপর কেন এভাবে ফেটে পড়লেন ট্রাম্প?

ইরানের সাথে তিন মাস ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে হোয়াইট হাউস যখন আপ্রাণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থান ও লেবাননে নতুন করে হামলা শুরুর ঘোষণা ওয়াশিংটনকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। গত সোমবার দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক টেলিফোনিক কথোপকথনে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর যাবতীয় শিষ্টাচার ঝেড়ে ফেলে নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

দুই নেতার ফোনালাপ সম্পর্কে অবগত দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি জানানো হয়, কথোপকথনের এক পর্যায়ে ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নেতানিয়াহুকে সরাসরি ‘পাগল’ (Crazy) বলে সম্বোধন করেন। এমনকি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ‘অকৃতজ্ঞ’ (Ungrateful) হিসেবেও অভিহিত করেন। ট্রাম্পের দাবি, নেতানিয়াহুর এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে খোদ আমেরিকা ও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মহলে জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “এখন সবাই আপনাকে ঘৃণা করে। আর আপনার এই কর্মকাণ্ডের জন্য বিশ্ববাসী এখন ইসরায়েলকেও ঘৃণা করতে শুরু করেছে।”

সিএনএন (CNN) জানিয়েছে, কথোপকথনের সময় ট্রাম্প বেশ কয়েকবার উচ্চস্বরে চিৎকার করে ওঠেন। তিনি নেতানিয়াহুকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে বিভিন্ন কঠিন সময়ে তিনি কীভাবে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং অকুন্ঠ সমর্থন দিয়েছেন। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেন, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখলে ইসরায়েল পুরোপুরিভাবে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা আমেরিকার পক্ষে সামাল দেওয়া অসম্ভব হবে।

যদিও নেপথ্যের এই উত্তপ্ত আলোচনার বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ এক রহস্যময় পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি এই ফোনালাপকে ‘ফলপ্রসূ’ দাবি করে লিখেছেন যে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অন্যের ওপর হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতের দিকে আর অগ্রসর হবে না।

তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদী বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টাবাতা দিয়েছে নেতানিয়াহুর দপ্তর। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তেল আবিব জানিয়েছে, লেবানন থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলও বৈরুতে বোমাবর্ষণ করতে দ্বিধা করবে না। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মতে, লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চলে পূর্বপরিকল্পিত সামরিক অভিযান যথানিয়মেই চলবে এবং এ বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউসের শান্তি পরিকল্পনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর এই একগুঁয়েমি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিদেশনীতিকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমের এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব মধ্যপ্রাচ্যের আগামীর মানচিত্র ও তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।