২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ভাসছে সুনামগঞ্জ: মৌসুমের সর্বোচ্চ রেকর্ডে বন্যার অশনিসংকেত

সুনামগঞ্জের আকাশ যেন ভেঙে পড়েছে আষাঢ়ের অঝোর ধারায়। গত দুই দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সীমান্তঘেঁষা এই জেলায় এখন বন্যার অশনিসংকেত দেখা দিয়েছে। জেলা আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের নতুন রেকর্ড। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল এক দিনে ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল, কিন্তু এবারের বর্ষণ সেই রেকর্ডকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে।

আষাঢ়ের মেঘে সুনামগঞ্জের হাওরগুলো এখন টইটম্বুর হয়ে আছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে সুরমাসহ জেলার প্রধান নদ-নদীগুলো। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু সুরমা নদীর পানিই বেড়েছে ৫১ সেন্টিমিটার। আজ সকাল ৯টার ‘আপডেট’ অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ২০ মিটার। যদিও এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৭ দশমিক ৮০ মিটার, অর্থাৎ পানি এখনও ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে পানি বাড়ার যে ‘ট্রেন্ড’ বা গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। সুরমা ছাড়াও ছাতক পয়েন্টে সুরমা, তাহিরপুরের জাদুকাটা ও পাটলাই, জগন্নাথপুরের কুশিয়ারা এবং দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা ও চলতি নদে হু হু করে বাড়ছে পাহাড়ি ঢল।

টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জনজীবনেও। সীমান্তবর্তী সদর, ছাতক, বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ এখন তাঁদের হাতে থাকা ‘স্মার্টফোন’ ব্যবহার করে নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও নদীর পানির স্তরের দিকে নজর রাখছেন। সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা আকরাম উদ্দিন জানান, নদীর পানি বাড়তে থাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও তাঁর ঘরে এখনও পানি ঢোকেনি। অন্যদিকে বিশ্বম্ভরপুরের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল গণী আনসারী হাওরের এই পানিকে স্বাভাবিক বর্ষা হিসেবে দেখলেও বড় কোনো বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মোসিনরাম এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির কারণে উজানের এই ঢল সুনামগঞ্জের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর বিভাগ-২) মো. এমদাদুল হক জানিয়েছেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ‘প্রটোকল’ অনুযায়ী আগামী দুই দিন আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নদী ও হাওরের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের জরুরি ‘বাজেট’ ও ত্রাণ প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে। আপাতত বৃষ্টির এই দাপট না কমলে সুনামগঞ্জবাসীর কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ দীর্ঘতর হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।