লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় একটি পারিবারিক সালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তুচ্ছ বাগ্বিতণ্ডার জেরে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই আপন ভাতিজার ছেলের বিরুদ্ধে। গুলিবিদ্ধ ওই বৃদ্ধ বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের ‘হামিদ উল্যাহ পাটওয়ারী’ বাড়িতে এই দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনাটি ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৭০)। তিনি রশিদপুর গ্রামের মৃত খলিলুর রহমান পাটওয়ারীর ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলামের বাম হাতে গুলি লেগেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক আশিক হোসেন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত মূলত একটি দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ থেকে। আশিকের বাবা ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে তাঁর মা আয়েশা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এই বিরোধ মেটাতে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁদের নিজ বাড়িতে একটি সালিস বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকে ইসমাইল হোসেনের আপন চাচা নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে আয়েশা বেগমের তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। এই ঘটনার পর আয়েশা বেগম ফোনে বিষয়টি ঢাকাতে অবস্থানরত তাঁর ছেলে আশিককে জানান এবং ‘অপমানের’ অভিযোগ করেন। মায়ের ডাকে ঢাকা থেকে দ্রুত গ্রামে ফেরেন আশিক। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় তিনি নজরুল ইসলামের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং এক পর্যায়ে নিজের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে বৃদ্ধকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সালিসে আয়েশা বেগম কারও কথা শুনতে রাজি ছিলেন না এবং অত্যন্ত উদ্ধত আচরণ করছিলেন। তাই তাঁর সঙ্গে আমার কিছু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। কেবল এই সামান্য কারণে তাঁর ছেলে আশিক আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করবে, তা কল্পনাও করতে পারিনি।’
এদিকে নিজের ছেলের এমন কর্মকাণ্ডে হতবাক বাবা ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের হাতে কীভাবে অস্ত্র এল এবং কেন সে তাঁর আপন দাদাকে গুলি করল, তা আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না। সে আগে কখনো এমন সন্ত্রাসী প্রকৃতির ছিল না।’ তবে স্থানীয়দের ধারণা, আশিক আগে থেকেই কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। অভিযুক্ত আশিককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। ওসির দেওয়া তথ্যমতে, আশিকের বিরুদ্ধে আগেও এলাকায় বিভিন্ন ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।