সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যের করুণ মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঝরে যায় মা, বাবা ও ছেলের প্রাণ। এই ঘটনা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ও গভীর চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
নিহতরা হলেন-অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন (৭০), তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৬০) এবং তাঁদের ছেলে ফরহাদ শাহ (৩০)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নুরুল আমিনের বসতঘরের পাশেই একটি মুদিদোকান রয়েছে, যা মূলত বাবা ও ছেলে মিলে পরিচালনা করতেন। সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে দোকানের টিনের চালে ছিদ্র হয়ে পানি পড়ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে ফরহাদ শাহ সেই চাল মেরামত করার জন্য ওপরে ওঠেন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তিনি চালের ওপর দিয়ে যাওয়া একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে আসেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফরহাদ নিচে পড়ে গেলে তাঁকে উদ্ধার করতে দ্রুত এগিয়ে আসেন বাবা নুরুল আমিন। কিন্তু তিনিও বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়েন। এরপর ছেলেকে ও স্বামীকে বাঁচাতে ছুটে যান মা ফাতেমা বেগম; তিনিও ঘটনাস্থলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
স্বজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ফরহাদের মামা ফয়েজ আহমেদ জানান, দোকানের চাল মেরামত করতে গিয়েই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা গভীরভাবে শোকাহত।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই এই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মৃতদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারটির ওপর নেমে আসা এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।