২২ দিনের উৎকণ্ঠার অবসান: বন্দরে ভিড়ল বিশালাকার জাহাজ, সচল হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

কাঁচামালের তীব্র সংকটে দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে নিস্তব্ধ থাকার পর অবশেষে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড’ (ERL)। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালীর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে এক বিশেষ কৌশলী পন্থায় সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (Crude Oil) আমদানির পর এই বন্ধ্যাত্ব কাটার পথে। আজ বুধবার (৬ মে) সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, কাঁচামালের এই নতুন চালানটি পৌঁছানোর ফলে আগামীকাল ৭ মে থেকে শোধনাগারটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে।

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় ইস্টার্ন রিফাইনারির দুটি প্রধান ইউনিটই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের শঙ্কার সৃষ্টি করেছিল। সংকট উত্তরণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) একটি ভিন্নধর্মী আমদানি কৌশল গ্রহণ করে। বিএসসির ভাড়া করা বিশাল ট্যাংকার ‘এমটি নাইনমিয়া’ গত ২০ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ টন তেলের কার্গো লোড করে এবং ২১ এপ্রিল চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। মঙ্গলবার (৫ মে) মধ্যরাতে জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া পয়েন্টে নোঙর ফেলে।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক এই সফল অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, “আমরা সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে বিশাল এই কার্গোটি সফলভাবে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি। এখন কুতুবদিয়া থেকে লাইটারিং বা ছোট জাহাজের মাধ্যমে তেল খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী ৯ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তেল খালাসের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া পয়েন্টে নোঙর করা এমটি নাইনমিয়া থেকে তেল খালাসের জন্য মোট ৮টি লাইটার জাহাজ কাজ করছে। এই জাহাজগুলো পতেঙ্গা সংলগ্ন ডলফিন জেটিতে তেল নিয়ে আসবে, যা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ইস্টার্ন রিফাইনারির বিশাল স্টোরেজ ট্যাংকে জমা হবে। বর্তমান এই ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল থেকে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য প্রায় ২৬ হাজার টন ডিজেল, ২৪ হাজার টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার টন পেট্রোল, ২১ হাজার টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার মেট্রিক টন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অকটেন উৎপাদিত হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান এই বিশাল চালানে শোধনাগারটি টানা ২৫ দিন চালু রাখা সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে আরও একটি ১ লাখ টনের চালান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে আসার অপেক্ষায় রয়েছে, যা চলতি মে মাসের শেষ দিকে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারে। বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম আর সরবরাহ সংকটের এই সন্ধিক্ষণে ইস্টার্ন রিফাইনারির পুনরায় সচল হওয়া বাংলাদেশের পরিবহন ও শিল্প খাতের জন্য এক বিশাল ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করবে। বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক রুটের সংকটগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।