রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং টেকসই পরিচালনা নিশ্চিত করতে এক উচ্চপর্যায়ের শক্তিশালী কমিটি গঠন করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। মূলত উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই ৯ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) ডিএমটিসিএল-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এই কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর মেট্রোরেলে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য ও প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি ‘সেফটি অডিট’ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। উক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন ও প্রযুক্তিগত তদন্ত শেষে ‘আইডেন্টিফিকেশন অব অপারেশনাল রিস্কস, সেফটি অডিট অ্যান্ড স্ট্রাকচারাল ইন্টিগ্রেটি অব দ্য কনস্ট্রাকটেড করিডর অব এমআরটি-৬’ শীর্ষক একটি বিস্তারিত ‘রিপোর্ট’ বা প্রতিবেদন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের মাধ্যমে আদালতে জমা দেয়।
আদালত সেই প্রতিবেদনটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে ডিএমটিসিএল-কে মোট ২৮টি সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। এর মধ্যে ৮টি সুপারিশকে ‘শর্ট টার্ম’ বা স্বল্পমেয়াদি, ১০টি সুপারিশকে ‘মিডিয়াম টার্ম’ বা মধ্যমেয়াদি এবং বাকি ১০টি সুপারিশকে ‘লং টার্ম’ বা দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও, ভবিষ্যতে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া নতুন সব এমআরটি প্রকল্পে নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বজায় রাখতে আরও ৬টি বিশেষ কৌশলগত সুপারিশ অনুসরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সদ্য গঠিত ৯ সদস্যের এই কমিটি মূলত আদালতের দেওয়া এসব নির্দেশনার প্রতিটি ধাপের সঠিক বাস্তবায়ন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের কার্যকর ‘সমন্বয়’ নিশ্চিত করবে। একইসঙ্গে এই ‘প্যাকেজ’ সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন কতটুকু অগ্রসর হলো, তা নিয়মিত তদারকি করা কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং ডিএমটিসিএল-এর প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমে এই উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে উচ্চ আদালতে দাখিল করতে হবে।
ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতকারী এই মেগা প্রকল্পে যাত্রীদের নিরাপত্তাকেই তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বা ‘টপ প্রায়োরিটি’ হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সুপারিশ এবং আদালতের আইনি নির্দেশনার সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে এমআরটি লাইন-৬-এর পরিচালনা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, ত্রুটিমুক্ত এবং বিশ্বমানের হয়ে উঠবে বলে আশা করছে সংস্থাটি। এই সংস্কার প্রক্রিয়ার ফলে মেট্রোরেল কেবল একটি দ্রুতগতির বাহন নয়, বরং দেশের সবচেয়ে নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।