আজ কি তবে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছে ঢাকা? আইকিউ এয়ারের সূচকে বড় চমক!

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের মাঝে আজ কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। বিশ্বের সবথেকে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকা আজ শীর্ষ অবস্থান থেকে অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘আইকিউ এয়ার’ (IQAir)-এর লাইভ বা তাৎক্ষণিক তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই (AQI) স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ৯০। পরিবেশ বিজ্ঞানের মানদণ্ড অনুযায়ী, এই স্কোরটিকে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ (Moderate) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যেখানে ঢাকাকে প্রায়ই তালিকার শীর্ষ তিন বা পাঁচের মধ্যে দেখা গেছে, সেখানে আজ ঢাকার অবস্থান ১৭ নম্বরে। তবে ঢাকার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও বিশ্বজুড়ে দূষণের চিত্রটি এখনো বেশ ভয়াবহ। আজকের তালিকায় ১৫৯ স্কোর নিয়ে বায়ুদূষণে শীর্ষে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসার স্কোর ১৫৮। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা ১৫৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় এবং পাকিস্তানের লাহোর ১৫৬ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি ১৩৭ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

আইকিউ এয়ারের কারিগরি ‘প্যাকেজ’ বা মানদণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি শহরের বায়ুমান স্কোর যদি ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকে, তবে সেই বাতাসকে ‘ভালো’ বা স্বাস্থ্যকর বলা হয়। ৫১ থেকে ১০০-র মধ্যে থাকলে তা ‘সহনীয়’ বা মাঝারি মান হিসেবে গণ্য করা হয়, যা আজ ঢাকার ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে। তবে স্কোর ১০১ থেকে ১৫০-এর ঘরে পৌঁছালে তা শিশু ও বয়স্কদের মতো সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোরকে সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। সূচক যদি ৩০১ ছাড়িয়ে যায়, তবে সেই বাতাসকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বা বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত বৃষ্টিপাত কিংবা বাতাসের গতিবেগের পরিবর্তনের কারণে সাময়িকভাবে বায়ুমানের এই উন্নতি ঘটতে পারে। ঢাকার বাতাস আজ সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও রাস্তার ধুলাবালি ও নির্মাণকাজের ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা। মেগাসিটির এই বিশাল জনসংখ্যার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে বায়ুমানকে সবসময় ১০০-র নিচে রাখার চেষ্টা করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।