নেপালে কি ফিরছে রাজতন্ত্র? কাঠমান্ডুর রাজপথে হাজারো মানুষের ‘রাজা বাঁচাও’ হুঙ্কার!

নেপালে কি ফিরছে রাজতন্ত্র? কাঠমান্ডুর রাজপথে হাজারো মানুষের ‘রাজা বাঁচাও’ হুঙ্কার!

নেপালের রাজনৈতিক আকাশে এখন পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া বইছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী কাঠমান্ডুর রাজপথ আজ হাজার হাজার মানুষের মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় পর নেপালের সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ ছুটি কাটিয়ে দেশে ফিরলে তাঁকে রাজকীয় কায়দায় বরণ করে নিতে এই বিশাল জনসমাগমের আয়োজন করা হয়। তবে এই বরণ অনুষ্ঠান কেবল আনুষ্ঠানিকতাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা রূপ নিয়েছে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার এক শক্তিশালী গণদাবিতে।

উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালে মাওবাদী বিদ্রোহীদের আধিপত্য থাকা একটি বিশেষ পরিষদের সিদ্ধান্তে নেপালে শত বছরের পুরনো রাজতন্ত্র বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে হিন্দু রাষ্ট্র থেকে নেপালকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে রূপান্তর করা হয়। তারপর থেকে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ৭৮ বছর বয়সী সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র কাঠমান্ডুতে তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনে একজন ‘পাবলিক’ বা সাধারণ নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করছেন। তবে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যেন সুদূর পরাহত হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৮ বছরে ১৪ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে নেপালে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফাটল ধরিয়েছে এবং দেশের ‘ইকোনমিক গ্রোথ’ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে।

রাজনৈতিক এই ডামাডোলের মধ্যেই গত সেপ্টেম্বর মাসে তরুণ প্রজন্মের তীব্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আগামী ৫ মার্চ নেপালে নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুক্রবারের সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘রাজা আসুন, দেশ বাঁচান’ বলে মুহুর্মুহু স্লোগান দেন। ৫৫ বছর বয়সী জ্ঞানেন্দ্র-সমর্থক সনাতন প্রসাদ রেগমি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমাদের অবশ্যই রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ, একজন রাজাই পারেন সব নেপালি জনগণের যত্নশীল অভিভাবক হতে, যা বর্তমানে অনেক দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতা হতে ব্যর্থ হয়েছেন।”

আসন্ন ৫ মার্চের নির্বাচনে পার্লামেন্টের ২৭৫টি আসনের বিপরীতে লড়াই করবে মোট ৬৫টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে রাজতন্ত্রপন্থীদের একটি শক্তিশালী দলও রয়েছে, যারা নেপালে পুনরায় ‘কন্সটিটিউশনাল মোনার্কি’ বা সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে নেমেছে। নেপালের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, দেশটির ৩ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে বর্তমানে ১ কোটি ৯০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। বিস্ময়কর তথ্য হলো, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর ভোটার তালিকায় নতুন করে প্রায় ১০ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছেন, যাঁদের সিংহভাগই তরুণ প্রজন্ম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেপালের এই তরুণ ভোটাররাই এবার রাজতন্ত্র ফেরানো বা প্রজাতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে নির্ধারক ভূমিকা পালন করবেন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।