বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের ইতিহাসে সূচিত হতে যাচ্ছে এক নতুন ও বৈপ্লবিক অধ্যায়। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন টিম কুক। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে অ্যাপলের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মুখ এবং হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান জন টার্নাসকে নতুন সিইও হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে টার্নাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই টেক জায়ান্টের হাল ধরবেন।
প্রযুক্তি বিশ্বে ‘সাপ্লাই চেইন জিনিয়াস’ হিসেবে পরিচিত ৬৪ বছর বয়সী টিম কুক ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের হাত থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন। গত ১৫ বছরে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অ্যাপল ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। তবে কুক প্রতিষ্ঠান থেকে একেবারে বিদায় নিচ্ছেন না; বরং ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি অ্যাপলের ‘এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান’ হিসেবে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর এই বিশাল অভিজ্ঞতা এবং নীতিনির্ধারণী পরামর্শ টার্নাসকে ভবিষ্যতের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পথ দেখাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অ্যাপলের নতুন সারথি হতে যাওয়া ৫০ বছর বয়সী জন টার্নাস দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটির অন্দরমহলে কাজ করছেন। ২০০১ সালে অ্যাপলে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি আইপ্যাড (iPad), এয়ারপডস (AirPods) এবং ম্যাক (Mac)-এর মতো জনপ্রিয় পণ্যগুলোর আধুনিকায়ন ও রূপরেখা তৈরিতে প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁকে অ্যাপলের ‘ইনসাইডার গোল্ড’ বলা হয়, কারণ হার্ডওয়্যার প্রযুক্তি এবং অ্যাপলের নিজস্ব ‘কর্পোরেট কালচার’ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান অত্যন্ত গভীর। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে যখন টিম কুক দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন তাঁর বয়সও ছিল বর্তমান টার্নাসের সমান অর্থাৎ ৫০ বছর।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপল প্রেমীদের জন্য এই নেতৃত্ব পরিবর্তন এক নতুন উদ্দীপনা নিয়ে আসতে পারে। বর্তমানে গুগল ও ওপেনএআই-এর সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI)-এর যে তীব্র লড়াই চলছে, তাতে অ্যাপলকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই হবে টার্নাসের প্রধান কাজ। তাঁর হাত ধরে বাজারে আসতে পারে বহু প্রতীক্ষিত ফোল্ডিং আইফোন, অত্যাধুনিক এআর গ্লাস (AR Glass) এবং সম্পূর্ণ নতুন ঘরানার এআই চালিত ডিভাইস। বিশেষ করে ‘সিরি’ (Siri)-কে আরও চৌকস ও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন করে তোলা টার্নাসের জন্য হবে এক বিশাল অ্যাসিড টেস্ট।
অ্যাপল বোর্ড অফ ডিরেক্টরস মনে করছে, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের নিখুঁত সমন্বয়ের মাধ্যমে টার্নাস প্রতিষ্ঠানটিকে উদ্ভাবনের এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। টিম কুকের রেখে যাওয়া শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে টার্নাস কীভাবে অ্যাপলকে আগামী দশকের প্রযুক্তির লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ববাসী।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।