মহাকাশ থেকে সরাসরি নেটওয়ার্ক! ইলন মাস্কের সাথে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশে ইতিহাস গড়ছে বাংলালিংক

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মালিকানাধীন ‘স্টারলিংক মোবাইল’-এর সাথে কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা (Satellite-to-Mobile) চালু করতে যাচ্ছে শীর্ষস্থানীয় টেলিকম অপারেটর বাংলালিংক। বর্তমানে স্টারলিংক মোবাইল বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্যাটেলাইট টু মোবাইল নেটওয়ার্ক হিসেবে পরিচিত, যা মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সরাসরি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করে। আজ বুধবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষ।

প্রথাগত মোবাইল নেটওয়ার্ক সাধারণত ভূমিভিত্তিক টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল, যার ফলে পাহাড়, গভীর অরণ্য কিংবা সমুদ্রের মতো দুর্গম এলাকায় প্রায়ই সিগন্যাল পাওয়া যায় না। কিন্তু স্টারলিংকের এই উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি বাংলালিংক নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার ফলে দেশের প্রতিটি কোণায় শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সংযোগ পাওয়া যাবে। বিশেষ করে যেসব ‘ডেড জোন’ বা নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় সাধারণ টাওয়ার পৌঁছানো অসম্ভব ছিল, সেখানেও এখন মোবাইল ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট, ভয়েস ও ভিডিও কলের সুবিধা পাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে এই সেবার মাধ্যমে এসএমএস (SMS) ও ওটিটি (OTT) মেসেজিং সুবিধা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অডিও কল এবং হাই-স্পিড ডেটা সেবাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়োহান বুসে এই উদ্যোগকে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংযোগ মানে কেবল উন্নত প্রযুক্তি নয়, বরং মানুষের প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকা। বাংলাদেশের অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে অনেক প্রত্যন্ত এলাকা আজও প্রচলিত নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতার কারণে ডিজিটাল সেবার বাইরে রয়ে গেছে। আমাদের লক্ষ্য স্টারলিংকের স্যাটেলাইট কাভারেজের মাধ্যমে সেই দেয়াল ভেঙে দেশের সবচেয়ে দূরবর্তী প্রান্তেও আধুনিক ডিজিটাল সংযোগ পৌঁছে দেওয়া।’

অন্যদিকে, স্টারলিংক মোবাইলের সেলস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টেফানি বেডনারেক বাংলালিংকের সাথে এই অংশীদারত্বকে একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ভিয়নের (VEON) সাথে অংশীদারত্বে বিশ্বের মাত্র তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এই সর্বাধুনিক সেবাটি চালু হচ্ছে। এটি সবার জন্য সমান ডিজিটাল সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। বর্তমানে এই বিশেষ প্রযুক্তিগত সুবিধাটি চালু করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি-র অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলালিংক। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি কার্যকর হলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় যখন মোবাইল টাওয়ার অকেজো হয়ে পড়ে, তখনও স্টারলিংকের মাধ্যমে জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।