ভিডিও স্ট্রিমিং জগতের মুকুটহীন সম্রাট ইউটিউব (YouTube) তাদের প্ল্যাটফর্মে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে ছোট ভিডিও বা ‘শর্টস’ (Shorts) দেখার যে তীব্র আসক্তি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারকারীদের হাতেই এবার চাবিকাঠি তুলে দিয়েছে এই টেক জায়ান্ট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এখন থেকে ব্যবহারকারীরা চাইলেই ইউটিউব ফিড থেকে পুরোপুরি সরিয়ে ফেলতে পারবেন শর্টস ভিডিও। মূলত ‘ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং’ বা সুস্থ ডিজিটাল জীবন নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অথচ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এতদিন ইউটিউবে শর্টস দেখার সময়সীমা দৈনিক ১৫ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়ার একটি প্রাথমিক সুবিধা ছিল। তবে নতুন ‘আপডেট’-এ যুক্ত করা হয়েছে চমকপ্রদ ‘০ মিনিট’ (0 Minute) অপশন। এর ফলে কোনো ব্যবহারকারী যদি সময়সীমা শূন্য করে দেন, তবে তাঁর ফিডে শর্টস ভিডিও প্রদর্শন কার্যত বন্ধ বা ডিজেবল হয়ে যাবে। যান্ত্রিকভাবে স্ক্রল করার সময় স্ক্রিনে স্বয়ংক্রিয়াভাবে একটি সতর্কবার্তা আসবে— ‘আপনি আপনার শর্টস লিমিট পার করেছেন’। এই ‘ডেডলাইন’ অতিক্রম করার পর অ্যাপটি ব্যবহারকারীকে আর নতুন কোনো ছোট ভিডিও দেখতে দেবে না।
ইউটিউবের এই নতুন ‘ফিচার’ বা সুবিধাটি চালু করার প্রক্রিয়াটিও অত্যন্ত সহজ। ব্যবহারকারীকে প্রথমে স্মার্টফোনের ইউটিউব ‘অ্যাপ’ থেকে ‘সেটিংস’ (Settings) অপশনে যেতে হবে। সেখানে ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ (Time Management) অপশনটি খুঁজে বের করে ‘শর্টস ফিড লিমিট’ টগলটি অন করতে হবে। সবশেষে সময়সীমা হিসেবে ‘জিরো মিনিটস’ সিলেক্ট করলেই মিলবে শর্টসের নেশা থেকে মুক্তি। তবে যাদের অ্যাকাউন্টে এখনও এই আপডেট পৌঁছায়নি, তাদের জন্য ন্যূনতম ১৫ মিনিটের লিমিট সেট করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এতে কি ইউটিউব থেকে শর্টস ভিডিও পুরোপুরি মুছে যাবে? উত্তর হলো—না। ইউটিউব মূলত ‘অবিরাম স্ক্রলিং’ বা ‘ইনফিনিট স্ক্রলিং’-এর চক্রটি ভাঙতে চাইছে। এই ফিচারের ফলে হোম ফিডে শর্টসের উপদ্রব এবং একটার পর একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ভিডিও আসার প্রক্রিয়াটি বন্ধ হবে। তবে ব্যবহারকারী যদি তাঁর পছন্দের কোনো চ্যানেলের ‘সাবস্ক্রিপশন’ ট্যাব থেকে শর্টস দেখতে চান কিংবা সরাসরি কোনো লিংকে ক্লিক করেন, তবে তা যথারীতি প্লে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইউটিউব প্রথম এই ফিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর শর্ট ভিডিওর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে বিশ্বজুড়ে চাপের মুখে ছিল গুগল। এই ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং আপডেটের মাধ্যমে ইউটিউব প্রমাণ করল যে, মুনাফার চেয়ে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা এবং সুস্থতাকে তারা অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এখন থেকে ইউটিউব দেখা হবে কেবল বিনোদনের জন্য, আসক্তির জন্য নয়—এমনটাই প্রত্যাশা প্রযুক্তি বিশ্বের।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।