বিশ্বজুড়ে বর্তমান সময়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন কেবল শখের গণ্ডি পেরিয়ে এক লাভজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ নতুন নতুন কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন, যার ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। তবে কন্টেন্ট থেকে আয় করার ক্ষেত্রে এবার বড় ধরনের বিধি-নিষেধ ও নতুন শর্তারোপের পথে হাঁটছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)। মূলত কৃত্রিম উপায়ে ভিউ বাড়ানো বা ‘এনগেজমেন্ট ফার্মিং’-এর মাধ্যমে প্রকৃত ক্রিয়েটরদের বঞ্চিত করার প্রবণতা ঠেকাতেই ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘মনিটাইজেশন’ (Monetization) পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে।
এক্স-এর নতুন নীতি অনুযায়ী, এখন থেকে কেবল ভিউ বা এনগেজমেন্ট থাকলেই কোনো কন্টেন্ট থেকে আয় করা যাবে না। আয়ের জন্য কন্টেন্টের গুণগত মান এবং মৌলিকত্বের (Originality) কঠিন শর্ত পূরণ করতে হবে। এর আগে অনেক ক্রিয়েটর অন্য কারো ছবি, ভিডিও বা ভাইরাল কন্টেন্ট কপি করে এবং উদ্বেগজনক ‘ক্লিকবেট’ (Clickbait) পোস্টের মাধ্যমে প্রচুর ভিউ কুড়াতেন। এর ফলে প্রকৃত সৃজনশীলরা তাঁদের প্রাপ্য লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হতেন। এক্স-এর প্রোডাক্ট হেড নিকিতা বিয়ার এ প্রসঙ্গে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখন থেকে কোনো পোস্ট যদি কপি করা হয়, তবে তার থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য আয় আসবে না। বরং যে ব্যক্তি প্রথম সেই কন্টেন্টটি তৈরি করেছেন, তাকেই পুরস্কৃত করবে মাস্কের এই প্ল্যাটফর্ম।
মনিটাইজেশনের এই নতুন সমীকরণে ‘প্রিমিয়াম ভিউ’ (Premium View) বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। এখন থেকে সাধারণ ভিউয়ের চেয়ে এক্স প্রিমিয়াম বা প্রিমিয়াম প্লাস সাবস্ক্রাইবারদের ভিউকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে কোনো ক্রিয়েটরের পোস্ট যদি গ্রাহকের মূল ফিড বা ‘হোম টাইমলাইন’-এ জায়গা করে নিতে পারে, তবেই সেখান থেকে আয়ের পাল্লা ভারী হবে। আগে অনেকে বড় বড় অ্যাকাউন্টের পোস্টে কমেন্ট বা রিপ্লাই করে ভিউ বাড়ানোর চেষ্টা করতেন, কিন্তু নতুন নিয়মে এই পদ্ধতিতে সুবিধা পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
২০২৬ সালকে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একটি স্বর্ণযুগ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি বছরেই ক্রিয়েটরদের জন্য দ্বিগুণ পরিমাণ ‘বাজেট’ অনুমোদন করেছে এক্স কর্তৃপক্ষ। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো স্প্যাম-মুক্ত একটি সুস্থ ও সুন্দর কন্টেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। যেখানে তথ্যসমৃদ্ধ কাজ এবং সৃজনশীলতা সবচেয়ে আগে মূল্যায়িত হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে প্রফেশনাল সাংবাদিক এবং যারা দীর্ঘ নিবন্ধ বা ‘লং-ফর্ম’ কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের জন্য আয়ের নতুন ও স্বচ্ছ একটি দ্বার উন্মোচিত হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।