বিশ্বজুড়ে উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারকারী কোটি কোটি গ্রাহক এখন এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে। মাইক্রোসফট ঘোষণা করেছে যে, তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই অপারেটিং সিস্টেমটির কারিগরি সহায়তা বা ‘টেকনিক্যাল সাপোর্ট’ অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে। সমস্যাটি আরও প্রকট হয়েছে কারণ, বর্তমানে সচল থাকা কয়েক কোটি কম্পিউটার ও ল্যাপটপের হার্ডওয়্যার মাইক্রোসফটের নতুন সংস্করণ ‘উইন্ডোজ ১১’ সমর্থনের উপযুক্ত নয়। এমন এক চরম ‘ডেডলাইন’-এর মুখে দাঁড়িয়ে গ্রাহকদের উদ্ধারে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে এসেছে গুগল। সংস্থাটি দাবি করছে, তাদের নতুন ‘ক্রোমওএস ফ্লেক্স’ (ChromeOS Flex) হতে পারে কোটি কোটি উইন্ডোজ ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং কার্যকর সমাধান।
গুগলের ভাষ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ কোটি উইন্ডোজ ১০ চালিত ডিভাইস রয়েছে যেগুলো উইন্ডোজ ১১-এ আপগ্রেড করা প্রায় অসম্ভব। এই বিপুল পরিমাণ ডিভাইস যাতে ই-বর্জ্য বা আবর্জনায় পরিণত না হয়, সেজন্যই আনা হয়েছে ক্রোমওএস ফ্লেক্স। এটি মূলত একটি ‘ক্লাউড-কেন্দ্রিক’ অপারেটিং সিস্টেম, যা পুরোনো ল্যাপটপ বা ডেস্কটপকেও নতুন করে গতিশীল ও সুরক্ষিত করতে সক্ষম। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, গুগল এই আপগ্রেড সুবিধাটি দিচ্ছে প্রায় নিখরচায়।
কারিগরি জটিলতা এড়িয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে এই সেবা পৌঁছে দিতে গুগল ‘ব্যাক মার্কেট’-এর সাথে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে আবদ্ধ হয়েছে। তারা একটি বিশেষ ‘ইউএসবি কিট’ (USB Kit) চালু করেছে, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৩ ডলারের কাছাকাছি। এই কিটটি ব্যবহার করে যেকোনো সাধারণ ব্যবহারকারী তাঁর পুরোনো ডিভাইসে ক্রোম অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করতে পারবেন। একটি কিট একাধিকবার ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী।
গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন একটি ল্যাপটপ তৈরি করতে যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন হয়, পুরোনো ডিভাইস পুনরায় ব্যবহারের মাধ্যমে সেই ক্ষতি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। গুগল জানিয়েছে, তাদের এই অপারেটিং সিস্টেমটি প্রচলিত অন্যান্য সিস্টেমের তুলনায় গড়ে ১৯ শতাংশ কম বিদ্যুৎ খরচ করে। এটি মূলত তাঁদের জন্য আদর্শ সমাধান যাঁরা দাপ্তরিক ইমেইল, ভিডিও কনফারেন্স, অনলাইন ডকুমেন্ট এডিটিং এবং ওয়েব ব্রাউজিংয়ের মতো ইন্টারনেট-নির্ভর কাজ বেশি করেন।
তবে এই নতুন সমাধানে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যারা উইন্ডোজের বিশেষায়িত সফটওয়্যার বা হাই-এন্ড গেমিংয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য ক্রোমওএস ফ্লেক্স পুরোপুরি বিকল্প হতে পারবে না। গুগল স্বীকার করেছে যে, এটি উইন্ডোজের হুবহু বিকল্প নয় বরং এটি একটি তাৎক্ষণিক ও সুলভ সমাধান যা পুরোনো হার্ডওয়্যারের আয়ু আরও কয়েক বছর বাড়িয়ে দিতে পারে। মাইক্রোসফটের কঠোর হার্ডওয়্যার নীতির ফলে যখন কোটি কোটি কম্পিউটার অকেজো হওয়ার পথে, তখন গুগলের এই উদ্ভাবনী পদক্ষেপ প্রযুক্তি বিশ্বে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।