পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ‘এপিসেন্টার’ বা প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সাত জেলার ১৪২টি আসনে আজ বুধবার দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাতটা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই ভোট গ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। এই দফার নির্বাচনী এলাকাগুলো ঐতিহাসিকভাবেই ‘তৃণমূলের জমি’ হিসেবে স্বীকৃত। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া এবং কলকাতার এই আসনগুলোতে গত নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তবে এবারের সমীকরণ গতবারের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রথম চার ঘণ্টায় প্রায় ৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। শতাংশের এই হার গত ২৩ এপ্রিলের প্রথম দফার ভোটের চেয়ে কিছুটা কম হলেও বুথগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। এবারের ১৪২টি আসনে মোট ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ২২০ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। মোট ৩ কোটি ২১ লাখেরও বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতে মোতায়েন করা হয়েছে ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, যার মধ্যে কেবল উত্তর চব্বিশ পরগনাতেই মোতায়েন রয়েছে রেকর্ড ৫০৭ কোম্পানি।
ভোটের দিন সকালেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ ভবানীপুর কেন্দ্রে নিজের ভোট দিয়ে বেরিয়েই নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত সারা রাত তিনি পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছেন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিকল্পিতভাবে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের নিশানা করছে। এমনকি গভীর রাতে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাসভবনেও তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করে দাবি করেছেন যে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছে। তবে ফলতা আসনে কারচুপির অভিযোগ তুলে সেখানে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছে বিজেপি।
এই দফার নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উত্তর প্রদেশের বিতর্কিত আইপিএস (IPS) কর্মকর্তা অজয় পাল শর্মা। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে তৃণমূলের আইনজীবীরা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করলেও বিচারক কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেননি। এরপর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। এরই মধ্যে দিল্লির এক থানায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অজয় পালের একটি ভুয়া ভিডিও ছড়িয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল একাই জিতেছিল ১২৩টিতে, আর বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ১৮টি। তবে বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় এবার বাম-কংগ্রেস এবং বিজেপি প্রার্থীদের ফল গতবারের চেয়ে ভালো হতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। ৪১ হাজার ১টি ভোটকেন্দ্রে ৫ লাখের বেশি কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া পাহাড়ায় শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।