ট্রাম্পের অনড় অবস্থান বনাম পুতিনের হুঁশিয়ারি: তেলের বাজারে আগুন ছড়াচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম ভূ-রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ এখন বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের কঠোর নৌ অবরোধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হার্ডলাইন বা আপসহীন অবস্থানের প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একলাফে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানি খাতের এই উল্লম্ফন গত চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে একটি নতুন বিশ্বরেকর্ড।

হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক কড়া বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে এই ‘নেভাল ব্লকেড’ বা নৌ অবরোধ আরও কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ট্রাম্পের কৌশলগত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর চেয়ে নৌ অবরোধ অনেক বেশি কার্যকর এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি দাবি করেছেন, এই অবরোধের ফলে ইরানের অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন চরম ‘হাঁসফাঁস’ বা শ্বাসরুদ্ধকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তেহরান নতি স্বীকার না করা পর্যন্ত এই অবরোধের সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। সরবরাহ ব্যবস্থা বা ‘সাপ্লাই চেইন’ পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং মার্কিন সাধারণ ভোক্তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে হোয়াইট হাউস বর্তমানে বাজার স্থিতিশীল করার বিভিন্ন বিকল্প পদক্ষেপ ও ‘বাজেট’ নিয়ে আলোচনা করছে।

এদিকে, ওয়াশিংটনের এই অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে তেহরান থেকে ‘কড়া জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের নতুন কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসার আগে তাঁদের ওপর থেকে সব ধরনের নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাঁরা কোনো প্রকার আপস করবেন না।

বিশ্ব রাজনীতির এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়েছেন। ক্রেমলিন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুতিন জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো সামরিক হঠকারিতা বা অভিযান শুরু করে, তবে তার পরিণতি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য ভয়াবহ ও বিপর্যয়কর হবে। রাশিয়ার এই সরাসরি অবস্থান সংকটকে আরও বহুমাত্রিক করে তুলেছে। সব মিলিয়ে, তেলের বাজারের এই অগ্নিমূল্য কেবল সাধারণ মানুষের পকেটেই টান দিচ্ছে না, বরং এটি একটি বড় ধরনের বৈশ্বিক মন্দার অশনিসংকেত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।