ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখতে এবার ব্রিটেনের রাজা চার্লসের সমর্থন পাওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সফররত ব্রিটিশ রাজা চার্লসের সম্মানে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে (State Dinner) ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে রাজা চার্লস যখন হোয়াইট হাউসে আতিথেয়তা গ্রহণ করছিলেন, তখন দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা উত্তপ্ত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছিল। বিশেষ করে, ইরান ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর ট্রাম্পের ক্রমাগত অসন্তোষ এবং সামরিক সহায়তার অভাব নিয়ে বারবার সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এই নৈশভোজের আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নৈশভোজে আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করছি এবং আমাদের অগ্রগতিও বেশ আশাব্যঞ্জক।’ এ সময় প্রতিপক্ষকে সামরিকভাবে পরাস্ত করার দাবি তুলে তিনি সরাসরি ইরানকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমরা সেই নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেতে দেব না। এ বিষয়ে রাজা চার্লস আমার চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে আছেন। তিনি আমার সাথে সম্পূর্ণ একমত যে, কোনোভাবেই ওই প্রতিপক্ষকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।’
ট্রাম্পের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে রাজা চার্লস নিজের বক্তব্যে অত্যন্ত সংযত ছিলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার্লস তাঁর বক্তব্যে ইরান কিংবা চলমান যুদ্ধ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ শাসনতান্ত্রিক কাঠামো অনুযায়ী রাজা সরাসরি সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন না এবং কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা মত দেওয়ার এখতিয়ারও তাঁর সীমিত।
এদিকে, ট্রাম্পের এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ওয়াশিংটনে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি বাকিংহাম প্যালেসের ওপর ছেড়ে দেয়। তবে বাকিংহাম প্যালেস থেকে এই মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এর আগে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণেও রাজা চার্লস সুকৌশলে যুদ্ধ প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তবে তিনি নাম না নিলেও ন্যাটোর প্রতি ট্রাম্পের কঠোর মনোভাবের সমালোচনা করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদের ভয়াবহতা সম্পর্কেও বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এককাট্টা। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো চেষ্টা করছে না, বরং পারমাণবিক বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) আওতায় শান্তিপূর্ণ প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের আইনগত অধিকার। তবে ট্রাম্পের এই নতুন দাবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণ ঘটায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া