ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি খুনের রেশ: অফ-ক্যাম্পাস আবাসন ও রুমমেট নিয়ে চরম আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) অফ-ক্যাম্পাস সংলগ্ন একটি অ্যাপার্টমেন্টে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় পুরো এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা এবং রুমমেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শিথিল ব্যবস্থা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে।

নিহত দুই শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। লিমনের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা অচিরেই বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে লিমনেরই রুমমেট, ২৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবুঘরবেহ ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুটি ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ বা প্রথম শ্রেণির হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই পৈশাচিক ঘটনার পর ইউএসএফ-এর বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাঁদের বসবাসের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। আলিসিয়া নামের এক শিক্ষার্থী দেশ মিডিয়াকে বলেন, “সাধারণত আমরা এ ধরনের নৃশংসতা সংবাদমাধ্যমে অন্য কোথাও ঘটতে দেখি। কিন্তু যখন নিজের অ্যাপার্টমেন্টের একদম পাশেই এমন ঘটনা ঘটে, তখন তা সত্যিই ভয়ানক ভয়ের সৃষ্টি করে। আমার মা-বাবা বিদেশে থাকেন এবং তাঁরা আমাকে এখন চরম সতর্কতার সাথে চলাফেরা করতে বলেছেন।”

আরেক শিক্ষার্থী নাথান আরনান তাঁর অভিজ্ঞতায় জানান, যেখান থেকে ঘাতক আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট সেখান থেকে মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে। তিনি মনে করেন, ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার ক্ষেত্রে এখন থেকে রুমমেটদের অতীত ইতিহাস বা ‘ব্যাকগ্রাউন্ড চেক’ করা এবং নিরাপত্তার কঠোর শর্তাবলি জারি করা সময়ের দাবি। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী এভারেট জানান, ব্যক্তিগতভাবে ইউএসএফ একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও এই ঘটনার পর রুমমেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সতর্ক থাকবেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা একটি কালো রঙের প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো ছিল। এর অদূরেই একটি জলাশয় থেকে মরদেহের কিছু খণ্ডিতাংশ উদ্ধার করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ বিভাগ, যা নিখোঁজ বৃষ্টির কি না তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। লিমনের ও বৃষ্টির পরিবার যৌথভাবে এক বিবৃতিতে ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এই অনিশ্চয়তা কাটাতে প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।