মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণাঙ্গন আর পশ্চিমা বিশ্বের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে দাঁড়িয়ে এবার এশীয় মিত্রদের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও নিবিড় করার পথে হাঁটছে ইরান। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মার্কিন আধিপত্য মোকাবিলায় এশিয়ার বিভিন্ন স্বাধীন দেশের সঙ্গে নিজেদের উন্নত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক প্রযুক্তি ভাগাভাগি করার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। বিশেষ করে প্রভাবশালী আঞ্চলিক জোট ‘সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা’ বা এসসিও (SCO) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি এই বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
কিরগিজস্তানে আয়োজিত এসসিওভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়েই নিক এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আগ্রাসন ও হুমকির বিরুদ্ধে আমরা এসসিওভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে একযোগে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” তাঁর এই মন্তব্যকে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন ক্ষমতার মেরুকরণের সংকেত হিসেবে দেখছেন সমর বিশারদরা।
বর্তমানে এসসিও-র সদস্য রাষ্ট্রগুলোর তালিকায় রয়েছে চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, বেলারুশ এবং খোদ ইরান। এই জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বের বৃহৎ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিগুলো থাকায় ইরানের এই প্রস্তাব বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকলেও এশিয়ার শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি গভীর হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়েই নিক সম্প্রতি রাশিয়া এবং বেলারুশের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে গোপন বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। ওই বৈঠকগুলোতে মস্কো ও মিনস্ক উভয়ই তেহরানের সঙ্গে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। বিশেষ করে ড্রোনের আধুনিকায়ন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত কাজ করার বিষয়ে প্রাথমিক ঐকমত্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যখন মার্কিন রণতরি ও হাজারো সেনার সমাবেশ ঘটছে, তখন ইরান এশীয় দেশগুলোকে পাশে পাওয়ার এই কৌশলী চাল চেলেছে। এর মাধ্যমে তেহরান বোঝাতে চাইছে যে, তাঁরা আন্তর্জাতিকভাবে একা নয়; বরং এশিয়ার বৃহৎ শক্তিগুলো তাঁদের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্বে আগ্রহী। ইরানের এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তন আসতে পারে, যা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।