লেবাননে কি তবে থামছে না রক্তক্ষয়? ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের বক্তব্যে নতুন আতঙ্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতি ও লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাত নিয়ে এবার সরাসরি এবং কঠোর বার্তা দিলেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান। দেশজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লেবাননের সাথে বর্তমানে কোনো ধরনের ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর নেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন করা ইসরায়েলি অগ্রবর্তী সেনাদলগুলোর রণপ্রস্তুতি পরিদর্শন করেন ইয়াল জামির। সেখানে দায়িত্বরত সেনাদের সাথে মতবিনিময়ের সময় তিনি এই অনমনীয় অবস্থান ব্যক্ত করেন। ইয়াল জামির বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আমাদের জন্য যে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে, তা হলো—এমন একটি শক্ত অবস্থানে থাকা যেখান থেকে ইসরায়েলি জনপদগুলোতে কোনো সরাসরি হামলা চালানো সম্ভব না হয়। আমরা ইতিমধ্যে সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি এবং বর্তমান কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখাই আমাদের মূল দায়িত্ব। আমাদের হয়তো দীর্ঘ সময়ের জন্য এখানেই অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।’

সেনাদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং চলমান অভিযানকে আরও বেগবান করার নির্দেশ দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘স্পষ্টভাবে জেনে রাখুন, এই মুহূর্তে রণক্ষেত্রে কোনো যুদ্ধবিরতির অবকাশ নেই। আপনাদের পূর্ণ শক্তিতে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। উত্তর ইসরায়েলের বসতিগুলো থেকে প্রতিটি সরাসরি ও পরোক্ষ হুমকি উপড়ে ফেলাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। কথিত ‘সন্ত্রাসীদের’ প্রতিটি ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ বা অবকাঠামো ধ্বংস করতে হবে এবং তাদের খুঁজে বের করে নির্মূল করার এই ‘অপারেশন’ বিরতিহীনভাবে চলবে।’

উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ধারাবাহিক ও নৃশংস হামলায় পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানে লেবাননে অন্তত ২ হাজার ২৯০ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। যুদ্ধের ভয়াবহতায় দেশজুড়ে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের এই নতুন হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লেবানন সীমান্তে বারুদের গন্ধ অচিরেই কাটছে না বরং এই মানবিক বিপর্যয় আরও দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী রূপ নিতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।