ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাঙ্ক্ষিত ইবাদত পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রথম কাফেলার ৪১৯ জন হজযাত্রী। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ এই প্রথম হজ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফলভাবে অবতরণ করে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো ২০২৪ সালের হজের মূল অভিযাত্রা।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরে অবতরণের পর বাংলাদেশের হজযাত্রীদের অত্যন্ত আন্তরিক ও রাজকীয় পরিবেশে অভ্যর্থনা জানানো হয়। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দেলওয়ার হোসেন এবং জেদ্দাস্থ কাউন্সিলর (হজ) মোঃ কামরুল ইসলাম বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে হজযাত্রীদের স্বাগত জানান। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়; হজযাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাঁদের হাতে প্রয়োজনীয় ‘রিফ্রেশমেন্ট কিট’ (Refreshment Kit) তুলে দেওয়া হয়।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার মো. রুহুল আমিন এবং জেদ্দা হজ টার্মিনালের হেড অব অপারেশন ইয়াহইয়া রাদি। এছাড়াও হজযাত্রীদের সার্বিক সেবা ও অভ্যর্থনা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত সৌদি প্রতিষ্ঠান ‘নুসুক মারহাবা’-এর ম্যানেজার রায়েদ বাকশাউনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সৌদিতে পৌঁছানোর পর যাত্রীরা ইমিগ্রেশন ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এর আগে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই উদ্বোধনী হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হজযাত্রীদের বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে এক বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং দেশের সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় তাঁদের কাছে দোয়া চান।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে বড় সংখ্যক মানুষ হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন। তাঁদের যাত্রা এবং সৌদি আরবে অবস্থানকালীন নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার এবং হজ মিশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রথম ফ্লাইটের এই সফল অবতরণ পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর জন্যও এক ধরনের ইতিবাচক মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া