ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালককে কুপিয়ে জখম; নেপথ্যে কি তবে কোটি টাকার ‘টেন্ডার’ সিন্ডিকেট?

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মহাখালীতে দিনেদুপুরে এক দুর্ধর্ষ হামলার শিকার হয়েছেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেন (৫০)। সোমবার বিকেলে মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে ছুরিকাঘাত করে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় রাজধানীর স্বাস্থ্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে কর্মস্থল ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বের হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পেছনের রাস্তায় নিজের বাসার দিকে যাচ্ছিলেন ডা. আহমদ হোসেন। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছালে দুই যুবক তাঁর পথরোধ করে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করে। হামলায় তাঁর হাত, বাম বাহু ও পিঠে গভীর জখম সৃষ্টি হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে দ্রুত ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক মোস্তাক আহামেদ জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এই নৃশংস হামলার নেপথ্যে পেশাগত বিরোধ বা ‘টেন্ডার’ সংক্রান্ত জটিলতা থাকতে পারে বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডা. আহমদ হোসেনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানান, মাত্র দুই মাস আগে তিনি ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ‘শৃঙ্খলা কমিটির’ পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া বা ইজিপির (e-GP) মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাউকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য অন্তত দুই সপ্তাহ আগে এক ব্যক্তি তাঁকে সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন।

আহত অবস্থায় ডা. আহমদ হোসেন নিজেই জানিয়েছেন, টেন্ডার বা হাসপাতালের কেনাকাটা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় অনেকে তাঁকে ফোন করে আসছিল। তবে ঘটনার দিন কোনো কথা ছাড়াই সরাসরি তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই দুই যুবক। হামলার পরপরই তারা জনাকীর্ণ এলাকা থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন উচ্চপদস্থ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ওপর জনসমক্ষে এমন হামলা কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়, বরং হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর এক ধরনের বড় চাপ সৃষ্টির অপচেষ্টা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার বা আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া