গাইবান্ধায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো সাদুল্লাপুর উপজেলার মানুষ। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে খেলা করতে গিয়ে বারান্দায় রাখা খোলা একটি ডিজেলের ড্রামে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে আরাফ মিয়া নামের দুই বছর বয়সী এক ফুটফুটে শিশু। আজ বুধবার ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।
নিহত শিশু আরাফ মিয়া সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের পালানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়ার ছেলে। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিজ বাড়ির বারান্দাতেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয় ছোট্ট আরাফ।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা বাবু মিয়ার একটি নিজস্ব ট্রাক্টর রয়েছে। সম্প্রতি ওই ট্রাক্টরের ডিজেলের ট্যাংকটি ফুটো হয়ে যাওয়ায় সেটি মেরামতের জন্য স্থানীয় এক মেকানিকের কাছে পাঠানো হয়। এ কারণে ট্যাংকে থাকা প্রায় ৫০ লিটার ডিজেল বাড়িতে এনে বারান্দায় রাখা একটি কাটা ড্রামে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে বড় ধরনের একটি বিপদ ওত পেতে ছিল সেখানে— ড্রামটির কোনো ঢাকনা ছিল না। সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ডিজেলভর্তি ড্রামটি মেঝেতে রাখা ছিল।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা যখন নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সবার নজর এড়িয়ে শিশু আরাফ ওই বারান্দায় চলে যায়। খেলতে খেলতে হঠাৎ করেই সে ডিজেলভর্তি সেই ড্রামে পড়ে ডুবে যায়। বেশ কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনেরা। একপর্যায়ে ড্রামের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে আজ বুধবার ভোরে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করে শিশুটি।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান। মুহূর্তের একটি অসতর্কতায় এমন একটি তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় পুরো পালানপাড়া গ্রামজুড়ে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।