বগুড়া থেকে শুরু হলো নতুন দিগন্ত; নারীদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নকে এক সুতোয় গেঁথে নতুন এক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যাত্রা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তার আওতায় এনে পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।


পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, নিজ জেলা বগুড়ায় দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী দুপুর দেড়টার দিকে পৈতৃক ভিটা গাবতলীর বাগবাড়ী এলাকায় পৌঁছান। এ সময় হাজারো মানুষের করতালির মধ্য দিয়ে তিনি মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। পরে তিনি উপস্থিত সুবিধাভোগী নারীদের হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে এই বিশেষ পাইলট কার্যক্রমের সূচনা করেন। উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।


ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি অসচ্ছল ও নিম্নআয়ের পরিবারকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই অর্থ সম্পূর্ণ ক্যাশলেস পদ্ধতিতে অর্থাৎ সরাসরি উপকারভোগীর ‘মোবাইল ব্যাংকিং’ অথবা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত মার্চ মাসে জাতীয় পর্যায়ে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হলেও, মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই ও কার্ড তৈরির কাজ শেষে বগুড়ার এই আয়োজনটিই ছিল দেশের সবচেয়ে বড় পরিসরের ‘পাইলট’ বাস্তবায়ন।


সকাল থেকেই কর্মসূচিস্থলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা। পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা থেকে দলে দলে নারী-পুরুষ সভাস্থলে হাজির হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানস্থল ও এর সংলগ্ন এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


মাঠে উপস্থিত সুবিধাভোগী বেশ কয়েকজন নারী জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। এই কার্ডের মাধ্যমে মাসে নির্দিষ্ট অংকের টাকা হাতে এলে সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ে তা বড় সহায়ক হবে।


এদিকে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের এই উদ্যোগটি প্রশংসনীয় হলেও এর সাফল্য নির্ভর করছে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর-সঠিক সুবিধাভোগী নির্বাচন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তালিকা প্রণয়ন এবং নিয়মিত অর্থ ছাড়ের নিশ্চয়তা। কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা ও ‘ডিজিটাল’ মনিটরিং নিশ্চিত করা সম্ভব হলে এটি হবে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি বড় সুরক্ষা বলয়। বগুড়া থেকে এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পুরো উত্তরাঞ্চলে সামাজিক উন্নয়নের এক নতুন বার্তা পৌঁছাল বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।