শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড: দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদ এখন ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায়

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে পুলিশের গুলিতে বুক পেতে দেওয়া বীর শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় এক বড় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদকে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আজ রবিবার (১৭ মে ২০২৬) দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে তাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়।

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গত শনিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ড. হাসিবুর রশিদের এই গ্রেপ্তার ও ট্রাইব্যুনালে হাজির করার ঘটনাটি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের পরিবার এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বেরোবির সাবেক এই উপাচার্যকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলের মুখোমুখি করা হবে। ট্রাইব্যুনালের প্রথা অনুযায়ী, প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানানো হবে। উল্লেখ্য, এই ট্রাইব্যুনালই গত ৯ এপ্রিল শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে দায়েরকৃত মামলায় হাসিবুর রশিদসহ মোট ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছিলেন। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে হাসিবুর রশিদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল।

শহীদ আবু সাঈদের সেই সাহসিকতাপূর্ণ আত্মত্যাগ ছিল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই মামলার এই প্রধান হোতা ড. হাসিবুর রশিদ সুকৌশলে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ নজরদারির পর তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। মাঠ পর্যায়ের তদন্তে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে সাবেক ভিসির সরাসরি উসকানি ও পুলিশকে সহযোগিতার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করছে তদন্ত সংস্থা। আজকের শুনানির পর তাঁর স্থায়ী কারাবাস নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।