লেবাননে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের গর্জন: শরণার্থী শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নারী-শিশুসহ ৯ জনের করুণ মৃত্যু

দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় আবারও ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ তান্ডব লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন ফিলিস্তিনি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি’ (এনএনএ) এই বর্বরোচিত হামলার খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সিডনসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে একের পর এক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

সবচাইতে ভয়ংকর ঘটনাটি ঘটেছে সিডন শহরের সন্নিকটে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘মিহ মিহ’ (Mieh Mieh) ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একটি সাধারণ আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে নিখুঁত নিশানায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বহুতল ভবনটি ধূলিসাৎ হয়ে যায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট হামলায় ঘটনাস্থলেই ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ৪ জন গুরুতরভাবে জখম হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

সহিংসতার এই লেলিহান শিখা কেবল সিডনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ‘আদলুন’ নামক স্থানে ‘ইসরায়েলি শত্রু বাহিনীর’ পৃথক হামলায় আরও ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী আরেকটি জনপদে চালানো হামলায় আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ লেবাননের আকাশ এখন স্বজনহারা মানুষের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে। ক্রমাগত এই বোমা বর্ষণের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন।

লেবানন সরকার এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে। সরকারি এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, কোনো সুনির্দিষ্ট উস্কানি ছাড়াই ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকা ও শরণার্থী শিবিরে এমন মরণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক কমান্ড বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে যে, তারা মূলত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর গোপন আস্তানা ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে এই অভিযান পরিচালনা করছে। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা; যেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক নিরীহ মানুষের নিথর দেহ উদ্ধার করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।