মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ ও লাশের স্তূপ দিন দিন আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকলেও বাস্তবে দক্ষিণ লেবানন এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সর্বশেষ দাবি অনুযায়ী, পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ৯০ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে দেশ মিডিয়ার পাঠকদের জন্য এই বিশেষ প্রতিবেদন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ বিমান হামলা ও নিখুঁত স্থল অভিযানে হিজবুল্লাহর আরও দুই যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু প্রাণহানিই নয়, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী হিজবুল্লাহর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো বা ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের এই অভিযান কেবল দক্ষিণ লেবাননেই সীমাবদ্ধ নেই; রাজধানী বৈরুতসহ পুরো লেবাননজুড়ে এখন ইসরায়েলি বোমারু বিমানের গর্জন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এই সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল চলতি বছরের মার্চের শুরুতে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তেহরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে ব্যাপক রকেট হামলা চালায়। এরপর থেকেই তেল আবিব লেবাননের ভূখণ্ডে তাদের সামরিক আগ্রাসন ও অনুপ্রবেশ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। লেবানন সরকারের ও জাতিসংঘের তথ্যমতে, যুদ্ধের ভয়াবহতায় ইতিমধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা রণক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসরায়েল ইতিমধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি বার এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এই অসম লড়াইয়ে ইতিমধ্যে শত শত লেবানিজ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার জন্ম দিচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরাশক্তিগুলোর পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী চাপ বা কূটনৈতিক সমাধান না এলে লেবানন পরিস্থিতি অচিরেই একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।