লাল গালিচা ও ২১ তোপধ্বনি: পুতিনকে রাজকীয় অভ্যর্থনা চীনের, লক্ষ্য কি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা?

আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্রবিন্দু এখন বেইজিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচিত চীন সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই বেইজিংয়ে পা রাখলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টকে ঠিক সেভাবেই রাজকীয় কায়দায় বরণ করে নিয়েছে চীন, যেভাবে গত সপ্তাহে ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। পুতিনের এই সফরটি কেবল একটি প্রথাগত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াশিংটনকে পাশ কাটিয়ে এক নতুন মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বুধবার (২০ মে) পুতিন বেইজিংয়ে পৌঁছালে তাঁর জন্য বিছানো হয় রাজকীয় লাল গালিচা। সামরিক কায়দায় ২১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বেইজিংয়ের রাস্তায় শত শত শিশুকে দুই দেশের পতাকা নাড়িয়ে ‘আপনাকে স্বাগত’ বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তবে প্রোটোকলগত দিক থেকে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন কূটনীতিকরা। গত সপ্তাহে ট্রাম্পকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছিলেন চীনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেং, আর পুতিনের আগমনে সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

অভ্যর্থনা পর্ব শেষে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের প্রারম্ভিক বক্তব্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাশিয়ার সাথে তাঁদের ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশ ‘রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা এবং কৌশলগত সহযোগিতা’র এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে শি জিনপিং আরও বলেন, ‘বিশ্ব এখন ক্রমেই এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং আধিপত্যবাদ (Hegemonism) চারদিকে জেঁকে বসেছে।’

চীনা প্রেসিডেন্ট পুতিনের উপস্থিতিতেই রাশিয়া ও চীনকে একযোগে একটি ‘আরও ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসঙ্গত বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে দুটি বিষয় আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথমত, বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে যে গভীর ও নিশ্ছিদ্র আস্থার সম্পর্ক বিদ্যমান, ওয়াশিংটনের সাথে বেইজিংয়ের সম্পর্ক সেই তুলনায় অনেক বেশি আলগা ও আনুষ্ঠানিক। দ্বিতীয়ত, চীন এখন আর মার্কিন একচ্ছত্র প্রভাব মেনে নিতে রাজি নয়; বরং তারা এমন একটি ‘বহুমেরুর বিশ্ব’ (Multipolar World) গড়ার পক্ষে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা ও খবরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

পুতিনের এই সফর এবং শি জিনপিংয়ের সাথে তাঁর এই নিবিড় আলোচনা মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য এক নতুন ‘ডেডলাইন’ বা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সারা বিশ্বের নজর এখন এই দুই পরাশক্তির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।