ইরানের কেশম দ্বীপে মধ্যরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; পেন্টাগনের নিশানায় কি তবে হরমুজ প্রণালি?

পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশিতে অবস্থিত ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ এখন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ৩টা ৩৮ মিনিটের দিকে দ্বীপটির উপকণ্ঠ অন্তত ছয়টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকাকালে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দে এলাকাটি রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, আকাশ থেকে ধেয়ে আসা এই ‘মিসাইল’গুলো দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্টে আঘাত হেনেছে। যদিও এখন পর্যন্ত দেশটির ‘ক্যাবিনেট’ বা শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক।

বিস্ফোরণের রেশ কেবল কেশম দ্বীপেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী প্রধান বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসেও। সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA) জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন অংশে প্রলয়ংকরী শব্দ শোনা গেছে এবং আতঙ্কে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। প্রাদেশিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেলেও সেখানে সরাসরি কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের দৃশ্যমান উপস্থিতি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সংবাদমাধ্যম মেহের দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্থাপনার ক্ষতি না হলেও কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় মার্কিন বাহিনীর ‘ড্রোন’ ও যুদ্ধবিমানের মহড়া এবং হামলার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বন্দর খামির এলাকার একটি সংযোগ সেতুতে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সোগান্দ দার্দমান্দ ও ফাতেমেহ জাহরা আকবরি নামের দুই কিশোরীর পরিচয় নিশ্চিত করেছে ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এই শোকাবহ সংবাদটি বর্তমানে মানুষের ‘স্মার্টফোন’ ও নিউজফিডে ভাইরাল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক এই আগ্রাসনে ইরানে নিহতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গেছে এবং অন্তত ৫০০-র বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ‘ডিপ্লোম্যাটিক’ বা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সব পথ যেন বারুদের ধোঁয়ায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসের এই অস্থিরতা কেবল ইরান নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারকে এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সাধারণ মানুষ এখন পরবর্তী ‘ডেডলাইন’ বা আরও বড় কোনো সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।