‘যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই’: সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে নেতানিয়াহুকে বড় বার্তা মামদানির

আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (UNGA) অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে দানা বেঁধেছে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক বিস্ফোরক বার্তায় জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু তাঁর শহরে পা রাখলে তাঁকে গ্রেপ্তারের আদেশ দিতে পারেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’ ও ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেয়রের এমন মন্তব্যের পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ও তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়েছে। মূলত গাজা সংকটের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহুর জন্য এটি এক বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি নেতানিয়াহুকে সোজাসুজি ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) যেহেতু ইতিপূর্বেই তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে, সেহেতু তাঁকে বিশ্বজনীন আইনি ‘প্রটোকল’ অনুযায়ী দ্য হেগের আদালতে বিচারের সম্মুখীন করা উচিত। মেয়রের এমন অনড় অবস্থান মূলত ফিলিস্তিন প্রশ্নে বিশ্বব্যাপী চলা আন্দোলনের একটি প্রশাসনিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তাঁর শহরে কোনো ‘অভিযুক্ত’ ব্যক্তির অবাধ বিচরণ তিনি সহজভাবে মেনে নেবেন না।

তবে একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি যে কেবল মেয়রের একক ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না, তা স্বীকার করেছেন খোদ মামদানিও। যদিও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD) সরাসরি সিটি মেয়রের প্রশাসনিক অধীনে পরিচালিত হয়, তবুও ‘ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি’ বা কূটনৈতিক দায়মুক্তির কারণে নেতানিয়াহুর মতো হাই-প্রোফাইল নেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এক বিশাল কারিগরি ও আইনি চ্যালেঞ্জ। মেয়র জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মোটেও ‘ক্যাজুয়াল’ বা হালকাভাবে ভাবছেন না। বরং নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ বা ‘রেস্ট্রিকশন’ জারি করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিটির আইন বিভাগের ঝানু বিশেষজ্ঞদের সাথে নিবিড় ও সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ইতিমধ্যেই নেতানিয়াহু প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই মন্তব্যের দ্রুত ও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের সেই ‘ডেডলাইন’ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে হোয়াইট হাউস এবং নিউইয়র্ক সিটি হলের মধ্যকার টানাপোড়েন আরও তীব্র হতে পারে। যেখানে একপক্ষে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং অন্যপক্ষে রয়েছে চিরাচরিত কূটনৈতিক প্রথা—এই দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির মেয়র কতটা সফল হন, সেটিই এখন বিশ্ববাসীর কাছে বড় এক প্রশ্ন। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অস্থিরতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।