ফিলিস্তিনপন্থী গোষ্ঠী ‘ফিলিস্তিন অ্যাকশন গ্রুপ’-এর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডন। গতকাল শনিবার লন্ডনের ঐতিহাসিক ট্রাফালগার স্কয়ারে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ৫২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। নজিরবিহীন এই ধরপাকড়ের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একটি ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের’ প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানানোর দায়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই বিক্ষোভ ও গ্রেপ্তারের নেপথ্যে রয়েছে এক জটিল আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই। গত ফেব্রুয়ারি মাসে লন্ডনের উচ্চ আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছিলেন, ফিলিস্তিনপন্থী এই গ্রুপটিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করে দেওয়া সরকারের নিষেধাজ্ঞাটি ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি। আদালতের ওই পর্যবেক্ষণের পর এটিই ছিল লন্ডনে গ্রুপটির সমর্থকদের প্রথম কোনো বড় জমায়েত। তবে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি; বর্তমান ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনি অনুমতি পেয়েছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে এখনো এক ধরনের টানাপোড়েন বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে ফিলিস্তিন অ্যাকশন গ্রুপের বেশ কিছু সদস্য যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ারফোর্সের একটি সামরিক ঘাঁটিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করলে ব্রিটিশ সরকার কঠোর অবস্থানে যায়। তখন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সংগঠনটিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে সংগঠনটি শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ‘যুদ্ধাপরাধে’ ব্রিটিশ সরকার পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। ব্রিটিশ সরকারের এই ভূমিকার প্রতিবাদ জানানোই তাদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, ইসরায়েল গাজায় কোনো ধরনের যুদ্ধাপরাধ করার অভিযোগ বরাবরের মতো অস্বীকার করে আসছে।
শনিবারের বিক্ষোভে লন্ডনের রাজপথে জনস্রোত নেমেছিল। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল রকমারি প্ল্যাকার্ড ও ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা। আন্দোলনকারীদের অনেকের গায়েই জড়িয়ে ছিল ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী সাদা-কালো রঙের স্কার্ফ বা কেফিয়াহ। পুলিশের কঠোর বেষ্টনীর মধ্যেই অনেক বিক্ষোভকারীকে রাস্তায় কিংবা তাঁদের নিয়ে আসা ‘ক্যাম্পিং চেয়ারে’ বসে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। তবে একপর্যায়ে পুলিশ অ্যাকশনে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গণগ্রেপ্তার শুরু হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, এত বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে একটি বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তারের ঘটনা লন্ডনে সাম্প্রতিক সময়ে বিরল।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।