দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং ‘ভার্সেটাইল’ অভিনেতা ধানুশ এখন সাফল্যের শিখরে অবস্থান করছেন। তবে আজকের এই আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা বা গ্ল্যামারাস জীবনের পেছনের পথটি মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। বর্তমান সময়ে তাঁর নতুন সিনেমা ‘কারা’ (Kara)-র মুক্তি নিয়ে যখন দর্শকমহলে চরম উন্মাদনা কাজ করছে, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা ও ‘বডি শেমিং’ (Body Shaming) নিয়ে মুখ খুলেছেন এই মেগাস্টার। সম্প্রতি এক প্রচার অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে শারীরিক গঠন নিয়ে করা বিদ্রূপকে তিনি নিজের সাফল্যের সোপান হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
ধানুশ জানান, ক্যারিয়ারের একদম শুরুতে তাঁর অত্যন্ত সাধারণ এবং রোগা শারীরিক গঠনের কারণে তাঁকে সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মশকরার পাত্র হতে হতো। ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে চওড়া কাঁধ আর পেশিবহুল শরীরের কদর বেশি, সেখানে ধানুশকে টিকে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত মনস্তাত্ত্বিক লড়াই করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে ২০০৭ সালে, যখন মুক্তি পায় তাঁর ব্যবসাসফল ছবি ‘পোল্লাধাবন’ (Polladhavan)। এই ছবির জন্য নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছিলেন তিনি। ধানুশ স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আগে মানুষ আমাকে খুব রোগা বলে তুচ্ছজ্ঞান করত। কিন্তু ওই ছবিতে যখন প্রথমবারের মতো ‘সিক্স-প্যাক’ শরীর নিয়ে পর্দায় হাজির হলাম, তখন দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল প্রেক্ষাগৃহ। সেই মুহূর্তটিই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।”
আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে ধানুশ এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, মানুষের চিন্তা ও বিশ্বাসের প্রতিফলনই তাঁর বাস্তব জীবনে ঘটে। ধানুশের ভাষ্যমতে, ২০০২-০৩ সালের দিকে তিনি যখন বলতেন যে একদিন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (National Film Award) জয় করবেন, তখন তাঁর কথা শুনে চারপাশের মানুষ হাসাহাসি করত। কিন্তু উপহাসের সেই পাহাড় ডিঙিয়ে নিজের ওপর বিশ্বাস হারাননি তিনি, আর সেই স্বপ্নই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
বর্তমানে ধানুশ ভক্তদের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘কারা’-র দিকে। বিগ্নেশ রাজা পরিচালিত এই টানটান উত্তেজনার ‘অ্যাকশন থ্রিলার’ সিনেমাতে ধানুশকে দেখা যাবে দুর্ধর্ষ এক ডাকাতের চরিত্রে। ছবির টিজার ও ট্রেলার ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে এটি ধানুশের ক্যারিয়ারে আরেকটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে। অ্যাকশন আর ইমোশনের এক অনন্য মিশেলে তৈরি এই সিনেমাটি আগামী ৩০ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে বড় পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এক সময়ের বিদ্রূপের শিকার সেই ‘রোগা’ তরুণটি আজ তাঁর কাজ দিয়ে বিশ্বকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, মেধা আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা জয় করা সম্ভব।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।